ঈদের ৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছেড়েছে চক্রটি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত দুই মাস ধরে প্রায় ৫ কোটি টাকার জাল নোট একটি চক্র ছড়িয়েছে বাজারে। ঈদকে কেন্দ্র করে চক্রটি আরও ২ থেকে ৩ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো চক্রটি।

কিন্তু ২ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছাড়ার আগে চক্রটির মূলহোতা সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) লালবাগ বিভাগ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চক্রের মূলহোতা ও মহাজন খ্যাত বাবুল মিয়া, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন, মূল কারিগর সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মিলি খাতুন, মহিলা কারিগর আলপনা আক্তার, ইব্রাহিম, আফাজুল ওরফে রাসেল, হাবিবুল্লাহ ও দুলাল হোসেন।

গতকাল রোববার (২৫ জুন) রাজধানীর লালবাগের কাশ্মীর লেন থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার (২৬ জুন) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার(ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, রোববার (২৫ জুন) গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের লালবাগ জোনাল টিম লালবাগ থানার কাশ্মীরি লেন এলাকায় গোয়েন্দা সূত্র ধরে ইব্রাহিম, আফাজুল ওরফে রাসেল, হাবিবুল্লাহ এবং দুলাল হোসেনকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৫ কোটি টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা কাশ্মীর লেনের একটি জাল টাকার কারখানার সন্ধান দেয়।

তাদের দেখানো একটি ছয়তলা ভবনের ষষ্ঠ তলা এবং তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির একটা ঘরোয়া কারখানা আবিষ্কার করে ডিবি লালবাগ। সেখানে জাল টাকা তৈরিরত অবস্থায় কারখানার মহাজন বাবুল মিয়া, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন, মূল কারিগর সাইফুল ইসলাম, তার স্ত্রী মিলি খাতুন, মহিলা কারিগর আলপনা আক্তারকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি টিনের ট্রাংক এ প্রস্তুত করে রাখা আরও ৮২ লাখ জাল টাকা জব্দ করা হয়।

তিনি বলেন, ঘরোয়া কারখানা থেকে জাল টাকা তৈরির কাজে ব্যবহৃত ল্যাপটপ, প্রিন্টার, জলছাপ যুক্ত বিশেষ কাগজ, বিভিন্ন রকমের মনোগ্রাম সম্বলিত স্ক্রিন, ডাইস, বিভিন্ন রং এর কালি, কাগজ কাটার যন্ত্র , কাচি, চাকুসহ প্রায় ২ কোটি জাল টাকা তৈরি করার উপযোগী সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়। এছাড়া জাল টাকা দোকানে খুচরা বিক্রি করতে গিয়ে যে সমস্ত পণ্য সামগ্রী ক্রয় করা হয় তাদের মধ্য থেকে কিছু কম দামের শাড়ি, লুঙ্গি, গামছাও উদ্ধার করা হয়।

ডিবি প্রধান বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে বাবুল জাল টাকা নিয়ে এপর্যন্ত ছয় বার, তার স্ত্রী মিনারা খাতুন তিনবার এবং সাইফুল ইসলাম দুইবার বিভিন্ন মেয়াদে জেল হাজতে ছিলেন। জামিনে মুক্তি পেতে তাদের লাখ লাখ টাকা খরচ হয়। উচ্চ সুদে ধার নেয়া ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে আবারো তারা একই কাজে জড়িত হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নিয়মিত মামলা রজু হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য তাদেরকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানান তিনি।

//এস//