বিয়ে করেও চাঁদা দিতে হলো ‘যুবলীগ নেতার’ সন্ত্রাসীদের!

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা

রাজধানীর পল্লবী থানা এলাকার একটি গার্মেন্টসে কাজ করেন সজীব। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে মন দেওয়া নেওয়া হয় তার।

পরবর্তীতে দুজন বিয়ে করেন। কিন্তু এ বিয়ে তাদের ওপর খড়্গ হয়ে নেমে এসেছে।

কারণ, স্থানীয় এক ‘যুবলীগ নেতার’ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে চাঁদা দিতে হয়েছে তাদের। এর আগে খেতে হয়েছে ব্যাপক মার।

এ ঘটনা নিয়ে গত বুধবার (১০ মে) পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়রি হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে আসে। সাজিবের অভিযোগ, যুবলীগের প্রোগ্রাম করা কিছু সন্ত্রাসী চাঁদার জন্য তাদের আটক করে মারধর করে। তার পকেটে থাকা ২ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দেওয়ার শর্তে তাদের রেহাই দেয়।

পল্লবী থানায় জিডিটি পরে মামলায় রূপান্তর হয়। পুলিশ সূত্রে মামলা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতোমধ্যে দুলাল (৩০), কাওসার (২৬) ও নাজমুল (২৮) নামে তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ।

সজীবের করা জিডি থেকে জানা গেছে, গত ৪ মে রাত দশটার দিকে গার্মেন্টস থেকে বের হওয়ার পর তাকে ও তার স্ত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যায় দুলাল, কাওসার ও নাজমুল। মিল্কভিটা এলাকার সামনে একটি ক্লাবে নিয়ে দুজনকে আটকে রেখে ‘বিয়ে করেছে’ বিধায় ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। এ সময় সজীবের পকেটে থাকা দুই হাজার টাকা তারা ছিনিয়ে নেয়।

পরে দুলাল তাদের জানান, কয়েকদিন আগে আরও দুজন বিয়ে করার কারণে তাদের লাখ টাকা দিয়েছে। তাদের মেরে এ টাকা আদায় করা হয়েছে। সাজিবদের কাছে তো মাত্র ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। পরে সজীবের স্ত্রী বেতন পেলে টাকা দেওয়া হবে বলে কথা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তার আগে সজীব ও তার স্ত্রীকে মারধরও করে সন্ত্রাসীরা।

জানা গেছে, দুলাল, কাওসার ও নাজমুল পল্লবী এলাকায় মিল্কভিটা কর্মচারী ইউনিয়ন ও যুবলীগের রাজনীতি করা সোহেলের সন্ত্রাসী। তারা সোহেলের মিছিল মিটিংয়ে অংশ নেন।

সজীবের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচয়। তারা বিয়ে করেছিলেন হুজুর ডেকে। এ সময়ের মধ্যে তারা বেতন পাননি। ফলে আলাদাই থাকছিলেন দুজন। পরবর্তীতে বেতন পাওয়ার পর চলতি মাসের ৮ তারিখে তারা কোর্টের মাধ্যমে ও কাজী অফিসে দুই লাখ টাকা দেনমোহরের বিনিময়ে বিয়ে করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ১০ মে পল্লবী থানায় জিডি করার পর বিষয়টি জানতে পারে পল্লবী এলাকায় মিল্কভিটা কর্মচারী ইউনিয়ন ও যুবলীগের রাজনীতি করা সোহেলের সন্ত্রাসী দুলাল, কাওসার ও নাজমুল। গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ মে) কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তারা সজীবকে আটকে আবার মারধর করে। এ সময় হুমকি দিয়ে কাওসার তাকে বলেন, পুলিশ তোদের কয়দিন পাহারা দিয়ে রাখবো? তোর হাত-পা কাইটা ফালামু।

এ ব্যাপারে মিল্কভিটা কর্মচারী ইউনিয়ন ও যুবলীগের রাজনীতি করা সোহেল বলেন, ওরা কি আমার বিষয়ে কিছু বলেছে? ওরা গার্মেন্টস কর্মী, মিটিং-মিছিলে তারা লোক দেবে কীভাবে? ওরা ৮ ঘণ্টা ডিউটি করার পর যুবলীগ করার সুযোগ পায়। ওরা যদি আমার নাম বিক্রি করে তাহলে আমার কি করার আছে?

আমি প্রধানমন্ত্রীর দল করি। আমি যদি খুন বা কোনো অপকর্ম করি, এর দায়ভার কি প্রধানমন্ত্রী নেবেন? দুলাল, কাউসার ও নাজমুল আমার লোক না। চাঁদাবাসীর বিষয়ে আমার কোনো ছাড় নাই। আমি মিল্কভিটায় চাকরি করি ও স্টক লটের ব্যবসা করি। এসবের পাশাপাশি যুবলীগের রাজনীতি করি।

বিষয়টি নিয়ে পল্লবী থানায় কথা বললে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তারিক বলেন, সজীবের অভিযোগ বিবেচনা করে অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ৩২৩, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (১২ মে) আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সিএনএস ডটকম//এসএইচ//