ক্রীড়া প্রতিবেদক :
সেনানিবাসের আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পর্দা নামলো ৯ দেশের অংশগ্রহনে সেনাপ্রধান আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ টুর্নামেন্ট। মঙ্গলবার পাঁচ দিন ব্যাপি প্রথম সেনাপ্রধান আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬ এর সমাপনী দিন ছিলো। এবারের প্রতিযোগীতায় মিশর, বাহরাইন, কুয়েত, জাপান, মালয়েশিয়া, বেলজিয়াম, পাকিস্তান ও বাংলাদেশসহ নয়টি দেশের ২৪ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে।
বিশ্বের ৮৫ তম অবস্থানের মিশরের ইয়াসিন সোডি এবং ৯৫ তম মালয়েশিয়ার ডুনকান লি-র মধ্য অনুষ্ঠিত চরম উত্তেজনা ও প্রতিযোগীতা পুর্ন ফাইনাল শেষে মিশরের ইয়াসিন শিরপা ছিনিয়ে নেয়। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার ডুনকান লি প্রতিযোতীগার অন্যমত ফেবারিট বিশ্বের ৭০ তম পাকিস্তানের আসিম খানকে সেমিফাইনালে পরাজিত করে। আর বাংলাদেশের তরুন প্রতিভা বিকেএসপির মো: আমিনুল ইসলাম সেরা বাংলাদেশী খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেছেন।
ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেলমু: হাসান-উজ-জামান, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এম ফিল-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লে: জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম, বিপি, এসবিপি, ওএসপি, বিএএম, এনডিসি, পিএসসি, এশিয়ান স্কোয়াশ ফেডারেশনের অন্যতম সহ-সভাপতি আদেল জাসেম আল-গালিব, সেনাবাহিনীর এ্যাডজুটেন্ট এবং জিওসি, লজেস্টিক এরিয়া। উর্ধতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিপি (অবঃ) ও নির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহম্মদ ও মহাসচিব জুবায়দুর রহমান রানাসহ বিদেশি কোচ জাভেদ মহসিন, অন্যান্য অতিথিবৃন্দ, বিপুল সংখ্যক সাংবাদিকবৃন্দ এবং স্কোয়াশ খেলোয়াড় ও তাদের অভিবাবক উপস্থিত ছিলেন।
নয়টি দেশের বিশ্বমানের পেশাদার খেলোয়াড়দের নিয়ে সফল ভাবে একটি আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগীতার আয়োজন করার জন্যে প্রধান অতিথি ধন্যবাদ প্রদান পূর্বক বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশনের কার্যক্রমের উপর আস্থা ও সন্তুষ্টি প্রকাশপূর্বক এবং বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলার উন্নয়নে সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথি এশিয়ান স্কোয়াশ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলার অগ্রগতি এবং একটি বড় মাপের আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগীতা সফল ভাবে আয়োজন করার জন্যে ধন্যবাদ ও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, মহিলা দলসহ পর্যপ্ত সংখ্যক খেলোয়াড় ও কোচ তৈরি, নিয়মিত দেশী ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতার আয়োজন, নিজস্ব কমপ্লেক্সে তৈরি, ইত্যাদি দশটি লক্ষ্য নিয়ে তৈরি প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা “ভীষন ২০২৫” বা স্বপ্ন যাত্রা এ বছর শেষ হবে। সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কাজ করে নিজস্ব খেলার স্থান বিহীন খুবই সীমিত সম্পদের পাশাপাশি হাজারো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমরা পর্যপ্ত সংখ্যক নবীন ও শিক্ষিত খেলোয়াড় এবং বিশ্ব মানের কোচ তৈরিসহ স্কোয়াশ খেলায় জাগরণ ঘটাতে পেরেছি। ইতোমধ্যে নিজস্ব একটা স্থান ব্যতীত বাকী নয়টি লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। এখন আমাদের আগামীর চ্যালেঞ্জ হ’ল, উন্নয়নের এই ধারা ও মানকে ধরে রেখে তা আগ্রগামী করা।
ফেডারেশন সম্প্রতি স্থগিত হওয়া এস এ গেইমসের পাশাপাশি আগামী ১০/১৫ বছরের টার্গেট নিয়ে গত তিন বছর জুনিয়র স্কোয়াশ খেলোয়াড় (ছেলে ও মেয়ে) তৈরি করেছে।
উল্লেখ্য, নিজস্ব খেলার স্থান ও সম্পদের চরম সীমাবদ্ধতাসহ পাহাড়সম চ্যালেঞ্জের মধ্যেও একটি পাঁচশালা পরিকল্পনা: ভিশন ২০২৫
স্বপ্নযাত্রা প্রনয়ন করে গত পাঁচ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম আর সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও সততার সাথে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে কোচিং ক্যাম্প ও কোর্স, ক্লিনিক ও ওয়ার্কশপ এবং একটার পর একটা দেশি ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগীতার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্কোয়াশ ফেডারেশন মৃত্যপ্রায় খেলাটিকে পুর্নজন্ম দেয়ার পাশাপাশি পরিচিতি, প্রচার প্রসার ঘটিয়েছে।










Discussion about this post