ডেস্ক নিউজ:
তারেক রহমান বলেন, “আমি আসলে খুব বেশি কথা বলতে পারি না। কিন্তু কেউ যদি আমাকে কোনো কাজ দেন, আমি আমার সেরাটা দিয়ে সেটা করার চেষ্টা করি, কাজে বিশ্বাসী।”
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ব্যক্তিত্বের একটি উদাহরণ তুলে ধরেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
দেশে ফেরার পর এটাই ছিল বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রথম সাক্ষাৎকার, যেটি টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশ করে বুধবার।
সাক্ষাতকারে নিজের দেশে ফেরার উদ্দেশ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত দুর্নীতির মামলা, শেখ হাসিনার শাসনামল ও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন তারেক রহমান।
গেল ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এর আগে তার দেড় যুগ কাটে লন্ডনে।
তারেক বলেন, “আমার শরীর এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে।”
তারেক রহমান দেশে ফেরার মাথায় মারা যান তার মা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমার হৃদয়টা ভীষণ ভারী হয়ে আছে।”
অশ্রুচোখে তিনি বলেন, “কিন্তু তার কাছ থেকে আমি যে শিক্ষা পেয়েছি, তা হলো, আপনার ওপর যদি কোনো দায়িত্ব এসে পড়ে, তাহলে সেটা আপনাকে পালন করতেই হবে।”
টাইম লিখেছে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে কয়েক দশক ধরে দুটি পরিবারের আধিপত্য। এরমধ্যে জিয়া পরিবারের প্রতিনিধি হিসেবে এখন তারেককেই চিন্তা করা হয়। আরেকটি পরিবারের নেতৃত্বে আছেন শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে শেখ হাসিনা। তবে মা-বাবার পরিচয়ে আজকের অবস্থানে এসেছেন বলে মনে করেন না তারেক রহমান।
“আমার মা-বাবার বদৌলতে নয়, বিএনপির সমর্থকদের জন্যই আমি বর্তমান অবস্থানে এসেছি।”
তার বিশ্বাস, দেশের বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় তিনিই সঠিক ব্যক্তি।
দেশে ফেরার পর থেকে নিজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন তারেক রহমান। তিনি ১২ হাজার মাইল খাল খননের কথা বলেছেন।
ভূমি অবক্ষয় রোধে বছরে ৫ কোটি গাছ লাগানো; ঢাকায় ৫০টি উন্মুক্ত সবুজ স্থান গড়ে তোলা; বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা; প্রবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে কারিগরি কলেজ পুনর্গঠন এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রণয়নসহ নানা পরিকল্পনার কথা তিনি শুনিয়েছেন।
টাইম ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, “আমি যা যা পরিকল্পনা করেছি, তার মাত্র ৩০ শতাংশও যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে আমি নিশ্চিত, দেশের মানুষ আমাকে সমর্থন দেবে।”
বিএনপি সবশেষ ক্ষমতায় ছিল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। ওই সময় টানা চার বছর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশলের সূচকে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ।
বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তারেক রহমানসহ দলটির অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়।
তারেক রহমান মনে করেন, তার বিরুদ্ধে করা এসব মামলা ছিল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আওয়ামী লীগ সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “তারা কোনো অভিযোগই প্রমাণ করতে পারেনি।”
জুলাই আন্দোলনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, “যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের গুরু দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যেন মানুষের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত হয়।”
সাক্ষাৎকারে লন্ডনে কাটানো সময় নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, লন্ডনে তার পছন্দের কাজ ছিল রিচমন্ড পার্কে ঘুরে বেড়ানো, চিন্তায় ডুবে থাকা কিংবা ইতিহাসের বই পড়া। তার প্রিয় সিনেমা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’।
“আমি সম্ভবত আটবার সিনেমাটি দেখিছি,” বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
সূত্র : বিডিনিউজ










Discussion about this post