নিজস্ব প্রতিবেদক
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঘোষিত যমুনা অভিমুখে পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় দিনভর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মী ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ সংগ্রহে থাকা গণমাধ্যমকর্মীরাও হামলার শিকার হন। সংঘর্ষ চলাকালে বাংলানিউজের চারজন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার গুরুতর আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে শাহবাগ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকে।
পদযাত্রা কর্মসূচিকে ঘিরে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষ।
দুপুরে সংঘর্ষের সময় আহত হন বাংলানিউজের সিনিয়র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ। তিনি জানান, সংঘর্ষের একপর্যায়ে সড়কের একটি চলন্ত বাস থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে মারধরের দৃশ্য ধারণ করছিলেন তিনি।
এ সময় পুলিশ তার ওপর চড়াও হয়ে লাঠিপেটা করে। এতে তার হাত ও নাকে গুরুতর আঘাত লাগে।
রাত ৯টার দিকে ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়ার সময় আহত হন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার সায়েদ শেখ। তিনি জানান, এক পুলিশ সদস্য একজন সংবাদকর্মীকে আঘাত করলে তিনি প্রতিবাদ করেন।
তখন ওই সদস্য তাকে লাথি মেরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ছবি তুলতে যান। এ সময় আরেক পুলিশ সদস্য তার চোখ লক্ষ্য করে ঘুষি মারেন, এতে তার কপালে আঘাত লাগে। এতে তিনি রাস্তায় পড়ে যান এবং তার ডান পা কেটে যায় ও বাম হাতে গুরুতর আঘাত পান। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
সন্ধ্যায় দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আহত হন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার বিল্লাল হোসেন স্বাধীন।
তিনি জানান, শাহবাগ থেকে এলিফ্যান্ট রোডের দিকে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিলে পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এ সময় হঠাৎ একটি ইট তার ডান কাঁধে আঘাত করে। এতে তীব্র ব্যথা অনুভব করছেন এবং হাত নাড়াতে কষ্ট হচ্ছে।
অন্যদিকে টিয়ারশেলের গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাংলানিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার জহিরুল ইসলাম রাতুল।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়লে একটি শেল তার পায়ের কাছে বিস্ফোরিত হয়। শেলের ধোঁয়া নাক–মুখ দিয়ে ঢুকলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দৈনিক নয়া শতাব্দীর রিপোর্টার মেহেদী হাসান তাকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে প্রাথমিক সেবা দেন।
দিনব্যাপী সংঘর্ষে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে। এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের সহকর্মীরা নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।










Discussion about this post