নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর কারাগারে বন্দি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মৃত্যুতে তাকে প্যারোলে মুক্তির ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করতে চান না কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল(অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবিকদের ব্রিফ করেন তিনি।
কৃষির বিষয়ে ব্রিফিং শেষে কারো প্রশ্ন আছে কিনা জানতে চান উপদেষ্টা। এ সময় একজন সাংবাদিক যশোরের ঘটনায় বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
জবাবে মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, না, আমি কৃষি ছাড়া কোনো উত্তর দেব না।
আরেকজন সাংবাদিক বলেন, আপনিতো স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও। এ সময় উপদেষ্টা বলেন, না, স্বরাষ্ট্রের সময় আমি ডাকব।
আপনিতো দ্বায়বদ্ধ— সাংবাদিক এ কথা বললে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, না, আমি দায়বদ্ধ নয়। আজকে আমি কৃষির জন্য ডেকেছি। আমি কৃষি ছাড়া বলব না। আপনারা কৃষির ওপর জিজ্ঞেস করবেন। যেহেতু কৃষকদের সমস্যাগুলো আপনারা বলেন না। এগুলো হলো সমস্যা।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের ভেতরে জামিন দেওয়া না, ক্রিমিনালদের জামিন দেওয়ার বিরুদ্ধে। কৃষির বিষয়ে প্রশ্ন করেন।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, গত বছরের তুলনায় বিভিন্ন খাদ্যশস্যের উৎপাদন বেড়েছে। এর মধ্যে ধান ৬ শতাংশ, আলু ১৪ শতাংশ, সরিষা ৮৬ শতাংশ উৎপাদন বেড়েছে। সরকার কোল্ড স্টোরেজেরর সংখ্যাও বাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে উদ্ধার করা হয় তার ৯ মাস বয়সি শিশু সন্তান নাজিমের মরদেহ। পুলিশ ও নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক হতাশা থেকে সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন ওই নারী।
তাদেরকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে জানাজা শেষে বাগেরহাট সদরের সাবেকডাঙ্গা গ্রামে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এর আগে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে মাত্র পাঁচ মিনিট স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ পান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দাম। শনিবার সন্ধ্যায় স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে পৌঁছায়।
স্বজনরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে মরদেহ নিয়ে কারাগারে পৌঁছানো হয়। সঙ্গে দুটি মাইক্রোবাসে করে ১২ থেকে ১৫ জন আত্মীয়স্বজন ছিলেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করে এবং অল্প সময় পর আবার বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
তাকে প্যারোলে মুক্তি না দেয়া ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এ বিষয়ে এরইমধ্যে বাগেরহাট ও যশোর জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয় থেকে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন তিনি।










Discussion about this post