চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ডাকা কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন রোববারও (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দর কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া আট ঘণ্টার এই কর্মসূচির ফলে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ গতকাল রাত সাড় ১১টায় এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বন্দর এলাকায় আগামী এক মাসের জন্য সব ধরনের মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণাকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
বন্দরের প্রশাসনিক ও পরিচালন কার্যক্রমে অচলাবস্থা নিরসনে আজ সকাল থেকেই বন্দর ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকা এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
এর আগে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল গতকাল শনিবার থেকে দুই দিনব্যাপী প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে এই কর্মবিরতি কর্মসূচির ডাক দেয়। এনসিটি টার্মিনালটি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা এই আন্দোলনে নেমেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ সকাল থেকে বন্দরের জিসিবি টার্মিনালে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়লেও সিসিটি ও এনসিটিতে সীমিত আকারে কার্যক্রম সচল রয়েছে। প্রশাসনিক কর্মচারীরা কাজ থেকে বিরত থাকায় দাপ্তরিক কাজেও ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বার্থ অপারেটরস, শিপহ্যান্ডলিং অপারেটরস অ্যান্ড টার্মিনাল অপারেটরস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বোটসোয়া) সভাপতি ফজলে একরাম চৌধুরী জানিয়েছেন যে, শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দেওয়ায় জিসিবি টার্মিনালে কনটেইনার হ্যান্ডলিং ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন দাবি করেছেন যে, সাধারণ শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আজ বিকেল চারটা পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালন করবেন।
বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে দেশের স্বার্থবিরোধী হিসেবে বর্ণনা করছেন আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ বন্দরের নিজস্ব সক্ষমতাকে সংকুচিত করবে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সচল রাখতে দফায় দফায় বৈঠক করছে।
বন্দরের সামনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা আশঙ্কা করছেন যে, এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।










Discussion about this post