নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, চলতি সপ্তাহেই পরিচয়পত্র পেশের মাধ্যমে ঢাকায় তার কূটনৈতিক দায়িত্ব শুরু করবেন ক্রিস্টেনসেন। এ লক্ষ্যে আগামী দুই দিনে তিনি পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নুরুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করবেন।
এর আগে, গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে শপথ নেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পর ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন একজন অভিজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ ফরেন সার্ভিস কর্মকর্তা। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির দায়িত্বে নিয়োজিত সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।
ক্রিস্টেনসেনের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন কৌশলগত কমান্ডের (ইউএসএসট্র্যাটকম) কমান্ডারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশ ক্রিস্টেনসেনের জন্য পরিচিত কর্মস্থল। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পলিটিক্যাল-মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র হস্তান্তর অফিসের ডেপুটি ডিরেক্টর (২০১৬-২০১৯) এবং হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির এশিয়া ও প্যাসিফিক সাবকমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের স্টাফে ‘পারসন ফেলো’ (২০১৫-২০১৬) হিসেবে কাজ করেছেন।
অভিজ্ঞ এই কূটনীতিক অতীতে উত্তর কোরিয়া নীতিবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী এবং ইস্ট এশিয়া ও প্যাসিফিক অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর সাইবার কো-অর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়াও ম্যানিলা ও সান সালভাদরে অর্থনীতিবিষয়ক ডেপুটি কাউন্সেলর এবং রিয়াদ ও হো চি মিন সিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। উল্লেখ্য, তিনি এর আগে ওয়াশিংটনে পররাষ্ট্র দপ্তরের পাকিস্তান ও বাংলাদেশবিষয়ক ডেস্কেও ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নবনিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূতের আগমনে ঢাকা ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।










Discussion about this post