মাসুদ রানা:
সাফ অ-১৯ নারী টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফাইনাল প্রায় নিশ্চিতই ছিল। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে স্বাগতিক নেপালের বিপক্ষে ৮ গোলের কম ব্যবধানে হারলেও ফাইনালে উঠত বাংলাদেশ। তবে হার নয়, দাপট দেখিয়েই নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে অপরাজিত থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
সাফ অ-১৯ নারী টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছে চার দল—বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান। রাউন্ড রবিন লিগে প্রত্যেক দল একে অপরের সঙ্গে একবার করে মুখোমুখি হয়েছে। টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে আবারও ফাইনালে বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত আসরে ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। নাটকীয় সেই ফাইনালে হারাতে পারেনি কেউ কাউকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ১-১ ও টাইব্রেকারের ১১-১১ গোলে সমতার পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাফ। দুই বছর পর আবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত।
আজ দিনের প্রথম ম্যাচে ভারত ৮-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের ফাইনাল প্রায় নিশ্চিত হওয়ায় কোচ পিটার বাটলার একাদশে কিছু পরিবর্তন আনেন।তবু ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে মামনি চাকমার কর্নার থেকে নেপালের গোলরক্ষকের ভুল কাজে লাগান প্রতিমা মুন্ডা। বক্সের ওপর থেকে প্লেসিং শটে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তিনি।
গোল হজমের পর নেপাল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং কিছু আক্রমণও চালায়। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে কোচ শান্তি মারডি ও আলপি আক্তারকে মাঠে নামান। আলপি নামার পরই বদলে যায় ম্যাচের গতি। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে আলপির গোলেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি নেপাল। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আলপি আক্তার দারুণ দক্ষতায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে ব্যবধান ৩-০ করেন। এরপর আরেকটি গোল করে বাংলাদেশ, স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-০।
ম্যাচের শেষ দিকে নেপাল দশজনের দলে পরিণত হয়। শেষ মুহূর্তে বক্সের একটু সামনে আলপির নেওয়া ফ্রি কিক নেপালের গোলরক্ষক দুর্দান্তভাবে সেভ করায় হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হন তিনি। গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ— করেছে ১৮ গোল, হজম করেনি একটিও গোল।
৭ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে প্রতিপক্ষ ভারতকে রাউন্ড রবিন লিগে ২-০ গোলে হারানোর অভিজ্ঞতা থাকায় মানসিকভাবে বাড়তি আত্মবিশ্বাস নিয়েই শিরোপা লড়াইয়ে নামবে অর্পিতা-আলপিরা।









Discussion about this post