রাজবাড়ী প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৮ জন শিশু ও ৬ জন পুরুষ রয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাপস কুমার পাল।
কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।
বাসটি দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছিল। কুষ্টিয়া থেকে ছয়জন যাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে বাসটি পথে আরও যাত্রী তোলে।
বাসটি নদীর ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীরে তলিয়ে গিয়েছিল জানান ফায়ার সার্ভিসের ফরিদপুর স্টেশনের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন।
দুর্ঘটনার বিবরণ: গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর পন্টুনে ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি ফেরিতে ওঠার মুহূর্তে পন্টুনে জোরালো ঝাঁকুনি লাগলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাসটি সরাসরি গভীর পানিতে তলিয়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান: ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা, ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিআইডব্লিউটিএ-এর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ নদী থেকে বাসটি টেনে তুলতে সক্ষম হয়। বাসটি পানির উপরে তুলে আনার পর ভেতর থেকে ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীকালে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে আজ সকাল ৮টা নাগাদ আরও ৭ জনের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে আরও ২জনের মরদেহ পাওয়া গলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয় ২৫ জন।নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি।
যাত্রীদের অবস্থা: বাস কাউন্টার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা অভিমুখী এই বাসটিতে চালক ও সহকারীসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর অন্তত ১৭ জন যাত্রী সাঁতরে বা স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন। এখনো কয়েকজন নিখোঁজ থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস।
প্রশাসনের পদক্ষেপ: রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের মরদেহ শনাক্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দাফন ও জরুরি সহায়তার জন্য প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।










Discussion about this post