নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে সাংবাদিকদের জন্য অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠনসহ একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ইশতেহার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারে সাংবাদিকদের বার্ধক্যকালীন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠন, সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা দিতে ‘বিশেষ সেল’ গঠন, সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অবসান ঘটিয়ে সুষম বণ্টন নীতি অনুসরণ, মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ‘মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে নাগরিকদের কোনো অভিযোগ থাকলে তা ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির আইনি বাধ্যবাধকতা, গণমাধ্যমকর্মী ও অফিসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে যে কোনো হামলা বা আগ্রাসন কঠোরভাবে দমন, বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনঃনিরীক্ষণ এবং গুজব, ভুয়া খবর এবং ঘৃণ্য বক্তব্য প্রতিরোধ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে বিএনপির ইশতেহারে।
এদিকে, বিএনপি তাদের ইশতেহারকে পাঁচটি ভাগে বিভক্ত করেছে, যেখানে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মোট ৫১ দফাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছে দলটি। সেগুলো হলো—
১. প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ। ভবিষ্যতে এই সহায়তার পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে।
২. কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ‘কৃষক কার্ড’-এর মাধ্যমে ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বিমা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় বাজারজাতকরণ। এ সুবিধা পাবেন মৎস্যচাষি, পশুপালনকারী খামারি ও কৃষি খাতের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও।
৩. দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জেলা ও মহানগরে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ।
৪. আনন্দময় ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাস্তব দক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষানীতি, প্রাথমিক শিক্ষায় সর্বাধিক গুরুত্ব, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সহায়তা এবং ‘মিড-ডে মিল’ চালু।
৫. তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা সহায়তা, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে সংযুক্তকরণ এবং মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ।
৬. ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তুলতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ।
৭. পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী এবং খাল খনন ও পুনঃখনন, পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু।
৮. ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা।
৯. ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সংযোগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম (পেপাল) চালু, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব স্থাপন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণ।
ইশতেহারের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা রাষ্ট্রদর্শন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা।










Discussion about this post