নিজস্ব প্রতিবেদক
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) একজন পরিচালকের বিরুদ্ধে ঘুষ, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদানের অভিযোগ তুলে ধরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা হলেন বিএমইটির পরিচালক মো. মাসুদ রানা।
অভিযোগকারী আব্দুস সালাম দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন ওই কর্মকর্তা। অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট, প্লট ও জমিসহ দেশের বাইরে সম্পদ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে কোনো নথি যাচাই করতে পারেনি এই প্রতিবেদক।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১২ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ জমা দেওয়ার পর কয়েকটি গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হয়রানির চেষ্টা করা হয়। এমনকি কিছু সাংবাদিককে টেলিফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে “প্রতিদিনের আলো” নামের একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমের ক্রাইম রিপোর্টার মোসা. ছায়মা আক্তার শিখা রাজধানীর চকবাজার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিএমইটির এক কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাঁকে ফোনে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। চকবাজার থানার জিডি নম্বর ৯৯৫ বলে প্রতিবেদকের কাছে থাকা নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তার নামে-বেনামে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও সাভারসহ কয়েকটি জেলায় সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে পরিচালক মো. মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উল্লেখ করা একটি মোবাইল নম্বরেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী কর্মীরা বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কাজে বাধা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত বলে তারা মনে করেন।










Discussion about this post