ক্রীড়া প্রতিবেদক :
আগামী ১০ জুন থেকে রাজধানীর আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে শুরু হবে ৬ষ্ট জাতীয় স্কোয়াশ প্রতিযোগীতা ২০২৬-এর চূড়ান্ত পর্ব।
৮ জুন সোমবার বাংলাদেশ অলিম্পিক ভবনে চারদিন ব্যাপি স্কোয়াশ প্রতিযোগীতার ট্রফি উন্মোচন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
উর্মি গ্রুপ ও Turaag Active-এর পৃষ্ঠপোষকতায় রেকর্ড সংক্ষক প্রতিভাবান খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াশ ফেডারেশন ৬ষ্ঠ বারের মত জাতীয় স্কোয়াশ প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছে। উল্লেখ্য যে আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সের পাশাপাশি আর্মি অফিসাস্ মেস ও বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে রাউন্ড রবিনলীগ ভিত্তিতে এই পর্বের খেলাগুলো আয়োজন করা হবে।
২৯ থেকে ০৫ জুন পর্যন্ত আঞ্চলিক/প্রথম পর্বে বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, সেনাবাহিনী, বিকেএসপি, সিলেট, কুমিল্লা ও ঢাকাসহ প্রায় ৩০টি ক্লাব/প্রতিষ্ঠানের ২০০ জনের অধিক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেছিল। তাদের মধ্যে ২৩টি জেলার মোট ১৮টি ক্লাব/প্রতিষ্ঠানের
বিজয়ী ও নির্বাচিত ১০০ জন খেলোয়াড় (পরুষ ৬০ ও মহিলা ৪০ জন) নিয়ে দশটি গ্রুপে শীরোপার চূড়ান্ত লড়াই হবে। চূড়ান্ত পর্বের গ্রুপগুলো হ’ল, উন্মুক্ত (পুরুষ), উন্মুক্ত (মহিলা), ডিপ্লোমেট/সৌখিন/মেম্বার/বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী (উন্মুক্ত) এবং ছেলে ও মেয়াদের অনুর্ধ ১১ বছর, অনুর্ধ ১৩ বছর এবং অনুর্ধ ১৫ বছর।
উন্মুক্ত পুরুষ গ্রুপে উত্তরা ক্লাবের সুমন ও আরিফ; সেনাবাহিনীর রনি, শাহাদাৎ, মাসুম, আপন, রাকিব, আজিজ, নায়েব, সাজ্জাত, শরিফ, গোপালগঞ্জের ফারদিন, এবং বিকেএসপির পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় আমিনুল, সাইমুন ও দুর্জয় বড়ুয়ার সাথে আব্দুল মালেক, আরাফাত মোল্লা প্রমুখ; মেম্বর গ্রুপে ক্যাডেট কলেজ ক্লাবের তারিক, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদ, বান্দরবান ক্লাবের মেজর সোহল আহম্মেদ,
চট্টগ্রাম ক্লাবের ফজলে ওয়ালী, প্রমুখ; মেয়েদের মধ্যে ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মারজান, উর্ধু ও জ্যোতি; খাগড়াছড়ির রাফিয়া; নির্ঝর স্কুলের নাবিলা ; উত্তরা স্কুলের চাঁদনী সরকার; কালশী স্কুলের মুক্তা, মনিকা, সিনথিয়া, আঁখি, জুৃৃৃঁই, সান্তোনা ও রুনু; ভাষানটেক স্কুলের ফাহমিদা ও মেঘনা; গোল্ডেন বেঙ্গল স্কুলের মীম; প্রমুখ আর ছেলেদের মধ্যে বিকেএসপির পারভেজ, আমিনুল, সাইমুন, ফারদিন, দূর্জয়, আরাফাত ও আতিক; ভাষানটেক স্কুলের সৈকত, আসিফ, নিঝুম ও নীলয় এবং চট্টগ্রামের রাফি, মুশফিক ও শাফীফ, কালশির আতিক ও ফেরদৌস আগামী চার দিন নিজ নিজ গ্রুপে শ্রেষ্টত্বের জন্যে লড়াই করবে।
ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মু: হাসান উজ জামানে, এনডিইউ, এএফডব্লউসি, পিএসসি, এম ফিল প্রধান অতিথি এবং বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহম্মদ (অব:) এবং সেক্রেটারী জেনারেল জনাব জুবায়েদুর রহমান রানা বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জি এম কামরুল ইসলাম, এসপিপি (অব), উন্নয়ন কমিটির প্রধান মেজর শফিউল্লাহ মাস্তানসহ উর্মী গ্রুপ ও ফেডারেশনের উর্ধতন কর্মকর্তা, প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং অভিভাবকসহ প্রচুর দর্শক ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। ১৩ জুন বিকাল ০৩ টায় আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণীর মাধ্যমে প্রতিয়োগীতার সমাপ্তি টানা হবে।
ফেডারেশনের সভাপতি বলেন, আগামী দিনের জাতীয় দলের খেলোয়াড় তৈরি এবং স্কোয়াশ খেলার পূর্নজাগরন ঘটানো ও ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে আমরা এই প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছি। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি স্কোয়াশ ফেডারেশনের কার্যক্রমের ভুয়াশী প্রশংসা করে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সেক্রেটারী জেনারেলও হাজার সমস্যার মধ্যে স্কোয়াশ ফেডারেশনের কার্যক্রমের ভুয়াশী প্রশংসা করে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্কোয়াশকে দেশ ব্যাপি ছড়িয়ে দেওয়া এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরি করে খেলার মান উন্নয়ন, প্রচার ও প্রসার ঘটিয়ে বাংলাদেশের স্কোয়াশকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে নেওয়ার লক্ষে এই প্রতিযোগীতার আয়োজন।
উল্লেখ্য কালশী, ভাষানটেক ও রজনীগন্ধা এলাকার স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের অধিকাংশই সুবিধাবঞ্চিত নাজুক আর্থ-সামসজিক পরিবারের সন্তান। তাদের থেকে স্কুল কলেজে পড়ুয়া সন্তানদের উল্লেখযোগ্য হারে স্কোয়াশ খেলায় অংশগ্রহণ প্রমান করে যে স্কোয়াশ একটি সম্ভাবনাময় খেলা যা বাংলাদেশে গণমানুষের খেলা হতে পারে।
রেকর্ড সংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ এবং সম্প্রতি এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়ানশীপ এবং নেপাল থেকে ছেলে ও মেয়েদের গ্রুপে পুরস্কার অর্জন প্রমান করে যে গত ৩/৪ বছরে বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলার যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। ফেডারেশনকে এই ধারা অব্যহত রাখতে এবং আরো বিস্তৃত ও বেগবান করতে হবে। আমরা আশা করতে পারি যে এই প্রতিযোগীতায় অংশ গ্রহনকারী বয়স ভিত্তিক স্কোয়াশ খেলোয়াড়রাই আগামীদিনে জাতীয় দলে খেলে বাংলাদেশের মান-সন্মান বৃদ্ধি করবে। আমরা এই প্রতিযোগীতার সার্বিক সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি সম্পদ ও নিজস্ব কোর্টের অভাবসহ অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও স্কোয়াশ খেলা চালু, প্রচার ও প্রসারে ফেডারেশনের সকল মহতি উদ্যোগের সফলতা কামনা করি।










Discussion about this post