স্পোর্টস ডেস্ক
বিশ্বকাপের মঞ্চে জোড়া গোল করে দলের বড় জয়ের নায়ক হওয়া যে কোনো ফুটবলারের জন্যই বিশেষ মুহূর্ত। কিন্তু তিউনিশিয়ার বিপক্ষে গোল করেও ভিন্ন এক বার্তা দিলেন সুইডেনের তরুণ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি।
বাবার জন্মভূমির জালে বল জড়ানোর পর উচ্ছ্বাসে না মেতে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ম্যাচ শেষে সেই দৃশ্যই আলোচনার কেন্দ্রে, যেখানে সুইডেন ৫-১ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে।
বিশ্বকাপের ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে তিউনিশিয়াকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। এক গোল হজম করলেও ৫ গোল দিয়ে বিশাল জয় তুলে নিয়েছেন ভিক্টর ইয়োকেরেসরা। দলটির হয়ে জোড়া গোল দিয়েছেন ইয়াসিন আয়ারি। বাকি তিন গোল করেন আলেক্সান্দার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও মাটিয়াস সভানবার্গ।সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে সুইডেন তাদের প্রথম গোল পায় ম্যাচের ৭ মিনিটেই। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে সুইডেনের হয়ে গোলটি করেন ২২ বছর বয়সী আয়ারি।
তবে গোল করার পর উদযাপনে মাতেননি এই তরুণ মিডফিল্ডার। বরং সিজদায় লুটিয়ে পড়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এর পেছনে রয়েছে পারিবারিক আবেগও। আয়ারির বাবা তিউনিশিয়ায় জন্মগ্রহণ করলেও তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য বেছে নিয়েছেন নিজের জন্মভূমি সুইডেনকে।
জানা গেছে, ২০২১ সালে তিউনিশিয়ার প্রতিনিধিরা তখনকার সুইডেন অনূর্ধ্ব-২১ দলের আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় আয়ারির সঙ্গে যোগাযোগ করে জাতীয় দল পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল।
শুধু তিউনিশিয়াই নয়, আয়ারির মা মরক্কোর হওয়ায় উত্তর আফ্রিকার দেশটির পক্ষ থেকেও জাতীয় দলে খেলার সুযোগ ছিল তার। তবে ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তিউনিসিয়ার প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এই উদীয়মান মিডফিল্ডার। বাবা-মায়ের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত সুইডেনের প্রতিই অনুগত থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ম্যাচে সুইডেন তাদের দ্বিতীয় গোল পায় ৩০ মিনিটে। এবার লক্ষ্যভেদ করেন আলেক্সান্দার ইসাক। তবে ৪৩ মিনিটে গোল করে ম্যাচে উত্তেজনা ফেরান তিউনিশিয়ার ওমার রেকিক। ফলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় সুইডিশরা।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য প্রতিপক্ষকে আর কোনো সুযোগ দেয়নি সুইডেন। ৫৯ মিনিটে ভিক্টর ইয়োকেরেস গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এ গোলে তিউনিশিয়ার গোলরক্ষক শামাখের ভুলও ছিল চোখে পড়ার মতো। ইসাককে অরক্ষিত রেখে দেওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি আর্সেনালের এই ফরোয়ার্ড।
ম্যাচের ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে গোলের খাতায় নাম লেখান মাটিয়াস সভানবার্গ। আর ম্যাচের শুরুতে গোল করা আয়ারিই শেষটাও রাঙান। নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সুইডেনের ৫-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
জোড়া গোল, দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ব্যতিক্রমী উদযাপনের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ইয়াসিন আয়ারি।










Discussion about this post