বিনোদন ডেস্ক
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিকা পারভীন পপি দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় ও চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে দূরে রয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবন পেছনে ফেলে জীবনের বাকি সময় ধর্মচর্চা ও আত্মশুদ্ধিতে কাটানোর ইচ্ছার কথা জানিয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।
নব্বই দশকের শেষভাগ থেকে শুরু করে পরবর্তী এক দশকজুড়ে ঢাকাই চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন পপি। তবে সময়ের পরিক্রমায় ধীরে ধীরে রূপালী পর্দা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। ব্যক্তিগত ও পেশাগত নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংবাদমাধ্যম ও চলচ্চিত্রপাড়া থেকেও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পপি জানান, অভিনয়ের অধ্যায় পেছনে ফেলে জীবনের বাকি সময় ধ্যান ও ধর্মচর্চার মধ্য দিয়ে কাটাতে চান তিনি। অতীতে জীবনে ‘যত পাপ কামিয়েছেন’, তা থেকে মুক্ত হয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথাও প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী।
পপির এমন বক্তব্যের পর বিনোদন অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই তার বক্তব্যকে অভিনয়জীবনকে ‘পাপ’ হিসেবে দেখার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
এ প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন ছোট ও বড় পর্দার অভিনেতা এবং সঞ্চালক শাহরিয়ার নাজিম জয়। সোমবার এক ফেসবুক পোস্টে পপির বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মৌসুমীর কথাও উল্লেখ করেন। একসময় মৌসুমীও অভিনয় ছেড়ে ধর্মচর্চায় মনোযোগী হওয়া এবং নিজের পুরোনো চলচ্চিত্রগুলো মুছে ফেলার আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে তাকে আবার অভিনয়ে দেখা গেছে।
জয় তার পোস্টে ব্যঙ্গাত্মকভাবে লেখেন, মৌসুমী ও পপির পর এখন শাবনূর ও পূর্ণিমাও যদি একই ধরনের কথা বলেন, তাহলে একটি পুরো প্রজন্মের গল্পই যেন পূর্ণতা পায়। অভিনয়কে পরবর্তী সময়ে ‘গুনাহ’ হিসেবে উপলব্ধি করার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন রাখেন, তারকাদের সেই অভিনয় দেখে এবং ভালোবেসে যেসব দর্শক-ভক্ত বছরের পর বছর তাদের অনুসরণ করেছেন, তাদের অবস্থান কী হবে?
বর্তমানে যারা জনপ্রিয়, তারাও ভবিষ্যতে জীবনের শেষ সময়ে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে হজ বা ধর্মের পথে মনোযোগী হওয়ার একই ধরনের বক্তব্য দেবেন কি না সেই প্রশ্নও তুলেছেন জয়।
উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে পপির অভিনীত ‘ডাইরেক্ট অ্যাটাক’ সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেলেও ছবিটি বেশ কয়েক বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। সিনেমাটির প্রচারণা কিংবা মুক্তির সময়েও কোথাও দেখা যায়নি জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীকে।










Discussion about this post