নুরুল ইসলাম সেলিম, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের রামু থানায় এক কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করেছেন অভিযুক্ত দুবাই প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধের জেরে এ মামলা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের কালু ফকিরপাড়ার মৃত আলী আকবরের ছেলে দুবাই প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে রামু উপজেলার রাজরকুল ইউনিয়নের দিয়াংপাড়া এলাকার দুবাই প্রবাসী দিদারুল আলমের মেয়ে সাদিয়া ছিদ্দিকা তাসমিনের ২০২৪ সালের ৮ জুলাই সামাজিকভাবে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। সে সময় ১২ লাখ টাকা দেনমোহর ও চার ভরি স্বর্ণ নির্ধারণ করে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে উভয় পক্ষের স্বজনরা সাক্ষর করেন। পরে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিকাহ নিবন্ধনের বিষয়টি সম্পন্ন করার কথাও স্ট্যাম্পে উল্লেখ ছিল।
অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, বিয়ের পর প্রায় দুই বছর স্বামী-স্ত্রীর সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। এ সময় সাদিয়ার বাবা দিদারুল আলম দুবাইয়ে অবস্থানকালে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে আনোয়ারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার নেন। পরে দেশে ফিরে আরও এক লাখ টাকা ধার চান। সেই টাকা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আনোয়ারের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১ জুলাই রাতে রামু ও কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের একটি দল চৌফলদণ্ডীতে আনোয়ারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সাদিয়া ছিদ্দিকা তাসমিনকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে যায়।
এরপর ৪ জুলাই সাদিয়ার মা মনোয়ারা আক্তার বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আনোয়ার হোসেনসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সাদিয়া আলহাজ ফজল আম্বিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী এবং গত ২৫ জুন বিকেলে তাকে অপহরণ করা হয়।
অন্যদিকে, স্থানীয় বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধি, মসজিদের মুয়াজ্জিন এবং এলাকাবাসীর দাবি, সাদিয়ার পরিবারের উপস্থিতিতেই দুই বছর আগে সামাজিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে এলাকাবাসীকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মামলার বাদী মনোয়ারা আক্তার বলেন, “আমার স্বামীর নির্দেশ অনুযায়ী আমি মামলা করেছি। এর বাইরে কিছু বলতে পারব না। বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ায় রয়েছে।”
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “কোনো নিরীহ ব্যক্তি মামলায় জড়িয়ে থাকলে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হবে। এছাড়া মেয়েটির বয়স আইন অনুযায়ী বিয়ের উপযুক্ত না হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, প্রধান আসামি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। ভুক্তভোগীর আদালতে জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে এবং আদালতের নির্দেশে তাকে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










Discussion about this post