মাসুদ রানা, নাগোয়া (জাপান) থেকে:
প্রায় দুই দশক পর এশিয়ান গেমসে পদক জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশের পুরুষ কাবাডি দল। কাল জাপানের সঙ্গে জিতলেই পুনরুদ্ধার হবে পদক। সোমবার আইচি-নাগোয়াতে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম খেলায় দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ পয়েন্টে হারিয়ে যাত্রা শুরু করে লাল সবুজের ছেলেরা। বিকালে তীব্রপ্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় শক্তিশালী চাইনিজ তাইপেকে ৪৮-৪৭ পয়েন্টে হারিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এই জয়ে ২০২৩ ২০২২ এশিয়ান গেমসে চাইনিজ তাইপের কাছে হারের প্রতিশোধ নিলো বাংলাদেশ
সকালে কোরিয়াকে হারাতেও বেশ বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয় বাংলাদেশকে। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ ১৭-১৬ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল। বিরতির পরও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সেই সামান্য ব্যবধান ধরে রাখতে সক্ষম হয় তারা। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ দুটি অল-আউট পয়েন্ট, দুটি বোনাস পয়েন্ট এবং একটি সুপার ট্যাকল থেকে পয়েন্ট অর্জন করে। অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ছয়টি বোনাস পয়েন্ট এবং একটি সুপার-ট্যাকল পয়েন্ট পেলেও বাংলাদেশকে অল-আউট করতে ব্যর্থ হয়।
বিরতির পরও ম্যাচের উত্তেজনা বজায় ছিল, যেখানে উভয় দলই দুটি করে অল-আউট পয়েন্ট অর্জন করে। তবে বাংলাদেশের রেইডাররা দুর্দান্ত পারফর্ম করে ম্যাচের মূল পার্থক্য গড়ে দেন এবং শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রেখে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
এই জয় বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের প্রতিশোধও বটে। ২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে চীনের হাংঝুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসের আসরে এই দুই দল মুখোমুখি হয়নি। ফলে সোমবারের ম্যাচটি ছিল আট বছর পর এশিয়ান গেমসে তাদের প্রথম সাক্ষাৎ।
বাংলাদেশ মঙ্গলবার জাপানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ এবং বুধবার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ পর্বের অভিযান শেষ করবে। ‘গ্রুপ এ’ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশ দল
মিজানুর রহমান (অধিনায়ক), মনিরুল চৌধুরী, সবুজ মিয়া, রোমান হোসেন, নাসির উদ্দিন শরীফ, আল আমিন, দিপায়ন গোলদার, রাসেল হাসান, নেছার হাওলাদার, জুলফিকার আকাশ, হাসিবুল হোসেন, রাজু শেখ।
কোচ: মো. আব্দুল জলিল
টিম লিডার: মো. আনোয়ার হোসেন

এশিয়ান গেমসে কাবাডিতে বাংলাদেশের হার
এশিয়ান গেমস ২০২৬-এ খেতাব ধরে রাখার অভিযান দুরন্ত জয় দিয়ে শুরু করল ভারতের মহিলা কবাডি দল। সোমবার গ্রুপ-এ-র প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশকে (India vs Bangladesh) ৪২-২১ পয়েন্টে হারাল ভারত। আইচির টোকাই সিটিজেন্স জিমনেজিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখান ভারতের খেলোয়াড়রা। আক্রমণের পাশাপাশি জমাট রক্ষণে বাংলাদেশকে চাপে রাখে ভারত।
আক্রমণ-রক্ষণে দুর্দান্ত ভারসাম্য
ম্যাচের শুরু থেকেই ভারতীয় দল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে। বাংলাদেশের পক্ষে বোনাস লাইনে পৌঁছনো কঠিন করে তুলেছিল ভারতের রক্ষণ। অন্যদিকে সফল রেড থেকে নিয়মিত পয়েন্ট সংগ্রহ করতে থাকে ভারত। বাংলাদেশের অধিনায়ক শ্রাবণী মৌলিক কয়েকটি পয়েন্ট এনে দেওয়ার চেষ্টা করলেও ভারতীয় ডিফেন্স তাঁর সুযোগ অনেকটাই সীমিত করে দেয়। আক্রমণে সঞ্জু দেবীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
প্রথমার্ধেই বড় ব্যবধান
ভারতের হয়ে লেফট কভার থেকে বিশেষভাবে নজর কাড়েন মণীষা কুমারী। আক্রমণে সোনালি শিংগেটে এবং অধিনায়ক পুষ্পা রানাও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যোগ করেন। প্রথমার্ধে বাংলাদেশকে একবার অলআউট করে ভারত। ফলে বিরতিতে ২১-১০ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল ভারতীয় দল। প্রথম ২০ মিনিটেই ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই প্রতিষ্ঠা করে ফেলে ভারত।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি
দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতের দাপট অব্যাহত থাকে। সঞ্জু দেবী এবং পূজা দ্রুত হ্যান্ড টাচ করে পয়েন্ট তুলতে থাকেন। রক্ষণে হাই লাইন বজায় রেখে বাংলাদেশের রেইডারদের উপর চাপ তৈরি করে ভারত। এই কৌশলের সুফলও মেলে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি অলআউট করে ভারত এবং ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয়।
শেষ দিকে বাংলাদেশের লড়াই
তবে ম্যাচের শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। শ্রাবণী-সহ বাংলাদেশের অন্য রেইডাররা পরপর কয়েকটি পয়েন্ট তুলে নেন। বাংলাদেশের ডিফেন্সও ভারতের আক্রমণের গতি কিছুটা কমিয়ে দিতে সক্ষম হয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ব্যবধান কিছুটা কমে এলেও ভারত দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সঞ্জু দেবী একের পর এক সফল রেড করে ফের বড় ব্যবধান তৈরি করেন।
সঞ্জুর দাপটে বড় জয়
শেষ পর্যন্ত ৪২-২১ পয়েন্টে সহজ জয় তুলে নেয় ভারত। ভারতের মোট ৪২ পয়েন্টের মধ্যে ছিল ১১টি বোনাস পয়েন্ট এবং চারটি অলআউট পয়েন্ট। বাংলাদেশের ঝুলিতে ছিল পাঁচটি বোনাস পয়েন্ট এবং একটি সুপার ট্যাকল পয়েন্ট। এই জয়ের ফলে খেতাব ধরে রাখার লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী শুরু করল ভারতীয় মহিলা দল। এবার বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় ইরানের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারত। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই হবে পরের ম্যাচে লক্ষ্য।










Discussion about this post