ডেস্ক নিউজ:
চট্টগ্রাম বন্দরে এক অভিযানে প্রিন্টারের ভেতরে লুকানো ১৮৬ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে।
‘প্রিন্টার’ ঘোষণায় আনা পণ্যচালানটি (কন্টেনার নং-SELU4389099) ১০০% কায়িক পরীক্ষা করার সময় প্রতিটি প্রিন্টারের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ৫০০ মিলিলিটারের চায়না ব্র্যান্ডের এই মদের বোতলগুলো পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অবৈধ এই চালানটি তাৎক্ষণিক আটক করে কন্টেইনারটি পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য দায়িত্বরত এসআইয়ের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, এই অবৈধ মদের চালানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নাম এসেছে ঢাকার কালিটেকের ‘সুজন এন্টারপ্রাইজ’-এর। অন্যদিকে, পণ্যটি খালাসের দায়িত্বে থাকা সিএন্ডএফ এজেন্ট চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার ‘আবেদ কর্পোরেশন’।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মো. জাহাঙ্গীর আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘প্রিন্টারের ভিতরে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১৮৬ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট’ এর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’’
এদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আমদানিকারক সুজন এন্টারপ্রাইজ এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট আবিদ কর্পোরেশন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, তারা কাস্টমসের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ‘ম্যানেজ’ করে মামলার হাত থেকে বাঁচার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই ধরণের জালিয়াতি ও অবৈধ আমদানির ঘটনায় মূলত ‘কাস্টমস আইন, ২০২৩’ এবং ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ অনুযায়ী আটককৃত মদ ‘এ’ গ্রেডের বলে জানা গেছে।
এই ধারায় অবৈধভাবে মাদক আমদানির জন্য দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। বিশেষ কায়দায় প্রিন্টারের ভেতরে মাদক লুকিয়ে আনা একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ হওয়ায় এটি ‘অর্গানাইজড ক্রাইম’ হিসেবে গণ্য হবে, যার ফলে জড়িতদের রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।










Discussion about this post