নিজস্ব প্রতিবেদক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে ছাত্রদল নেত্রী দ্বারা জনসম্মুখে চড় মারার ও দেখে নেওয়ার হুমকির ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলী ভূমি আইন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি জকসু নির্বাচনে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের হয়ে জিএস পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ৮ম ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, যাদের সাথে নেলী আপুদের খেলা, তারা দুইজন দুই ডিপার্টমেন্টের ছিল। এটা নিয়ে তারা অভিযোগ করেছে। আমি এই ঘটনাটা জানার সঙ্গে সঙ্গে গৌতম স্যারের সাথে যোগাযোগ করেছি যে, কেন তাদেরকে খেলার সুযোগ দেওয়া হলো? এবং কেন ফাইনালে এসে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো?
জর্জিস বলেন, তখন আমাকে বলা হয়, যারা বিচারক ছিলেন, তারাও বিষয়টি জানতেন না। তখন আমরা যখন তাদের সাথে আলোচনা করলাম-ঐ ছাত্রদলের নেত্রী নেলী আপুর সাথে আমি কথা বলতে গিয়েছিলাম। আমি কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভিসি স্যারকে ফোন দেওয়ার হুমকি দেন। এখানে নিয়ম অনুযায়ী যে ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ক এবং ইনডোর গেমসের আহ্বায়ক আছেন, তারা যে সিদ্ধান্ত নিবেন সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের এগোতে হবে। ঘটনাটি এখানেই শেষ।
জর্জিস আরও বলেন, পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকে সিদ্ধান্ত আসে তাদেরকে না খেলেই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে দেওয়া হবে। এরপর অডিটোরিয়ামের যখন সামনে দাঁড়িয়েছিলাম সঙ্গে গৌতম স্যারও ছিলেন। এ সময় নেলী আপু এসে বলে, নাঈম, আপনি কিন্তু কাজটা ঠিক করেননি। তখন আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে, ধন্যবাদ। আমি শুধু এইটুকুই বলেছি, আর কিছু বলিনি।
তিনি আরও বলেন, পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে স্যারসহ যখন বের হচ্ছিলাম, তখন নেলী আমাকে বলেন যে, তিনি আমার সাথে কথা বলতে চান। আমি বললাম- না, আমার এখন একটু কাজ আছে, কাজটা শেষ করি। এই কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে সে আমাকে সজোরে একটা থাপ্পড় মেরে দিল! এরপর ইচ্ছামতো চিল্লাপাল্লা করলো। সে আমার আপু এবং একটা নারী মানুষ হিসেবে তার একটা সম্মানের জায়গা থেকে আমি একটা কথাও বলিনি। আপনারা চাইলে ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে পারেন। আমি একটা ‘টু’ শব্দও করিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা উপ-পরিচালক গৌতম বলেন, ইনডোর গেমসের অংশ ক্যারাম টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নিয়ম অনুযায়ী একই বিভাগের খেলোয়াড়দের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ফাইনালে ওঠা একটি দলে ভিন্ন বিভাগের সদস্য থাকার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে অন্য প্রতিযোগী দলগুলো আপত্তি জানায়। পরবর্তীতে দুই টিমের মধ্যে সকল কিছু মিমাংসা করে আমরা তাদের হাতে পুরষ্কার তুলে দিই। তারা খুশি মনেই তা গ্রহণ করে।
উপ-পরিচালক গৌতম আরও বলেন, জর্জিসকে চড় মারা মূলত একটি অবিচ্ছিন্ন ঘটনা।
অন্যদিকে, ঘটনার দায় স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নেলী একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে লেখেন, এর পর থেকে খেলায় স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পর খাবেন। এখন ত শুধু একটা দিছি। আপমার স্বজনপ্রীতির সব প্রমাণ কিন্তু আছে আমার কাছে। অন্যায়ভাবে রুলসের বাইরে গিয়ে দুইটা টিমকে একসাথে চ্যাম্পিয়ন করতে চাইছেন সেখানে কারোর পাওয়ার লাগে না। ক্রীড়া সম্পাদক হয়ে ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করেন। অবৈধভাবে কাউকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টাও করবেন না।
এদিকে, ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ক্রীড়া সম্পাদককে শিক্ষকদের সামনেই আঘাত করেছেন ছাত্রলীগ থেকে পুনর্বাসিত ছাত্রদল নেত্রী লেনী। এর আগেও বিভিন্ন ক্যাম্পাসে তারা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে। মূলত এভাবেই একের পর এক অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা করা হচ্ছে সারা দেশে। আমরা ইতোমধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। অতি দ্রুত এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল ও সদস্যসচিব শামসুল আরেফিনকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি।
এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো নাসিরউদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী নূরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কী ঘটেছে তিনি তদন্ত করে জানাবেন।
এ বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়ককে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি, সে যেই হোক এর বিচার আমরা করবোই। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থীর গায়ে কেউ হাত তুলবে, তা হতে দেব না। এমন বিচার করা হবে, যেন কেউ আর এমন আচরণ করার সাহস না করে।









Discussion about this post