মোঃ আনোয়ার হোসেন :
৪৯ তম জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার ২০২৬ মাঠে গড়াচ্ছে রোববার থেকে। তিনদিন ব্যাপী এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন ৪৫ জেলা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মোট ৪১০ এ্যাথলেট। তার মধ্যে পুরুষ প্রতিযোগি ৩১২ জন এবং মহিলা ৯৮ জন। তাদের সাথে ৬৫ জন থাকছেন টিম ম্যানেজার ও কোচ।
১৬ মে (শনিবার) এই প্রতিযোগিতা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার ভেন্যু জাতীয় স্টেডিয়ামের সভা কক্ষে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম। তিনি জানান, এবারের প্রতিযোগিতা তিনটি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে – ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়াম দৌড় প্রতিযোগাতা, ম্যারাথন পূর্বাচল ৩০০ ফিট ও সকল থ্রো প্রতিযোগিতা বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে। এবার কোন পৃষ্ঠোপষক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় অ্যাথলেটিক্সে দুই গ্রুপে ৪০ টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। মহিলাদের ১৮ ও পুরুষদের ২২ টি ইভেন্ট।

১৭ মে বিকাল ৩ টায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন উক্ত ফেডারেশনের সহ- সভাপতি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রনালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান।
এবারের প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অ্যাথলেট পাবেন ৫ হাজার, রৌপ্য ৩ হাজার ও ব্রোঞ্জ পদক অর্জনকারীরা পাবেন ২ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার। আর রেকর্ডধারীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা। প্রতিযোগিতার পর্দা নামবে ১৯ মে মঙ্গলবার।
এদিকে, দেশের অ্যাথলেটিক্স অঙ্গনে আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন গত ২৫ মে জাতীয় স্টেডিয়ামে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন ও আধুনিক ওয়েবসাইটের উদ্বোধন এবং অ্যাথলেটদের সুরক্ষায় ‘সেইফগার্ডিং পলিসি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অ্যাথলেটিক্সের নতুন রূপ
ফেডারেশনের নবনির্মিত আধুনিক ওয়েবসাইটটি এখন থেকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ হিসেবে কাজ করবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অ্যাথলেটিক্সের সকল কার্যক্রম আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে। ওয়েবসাইটের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:
• অ্যাথলেট ডাটাবেজ ও রেজিস্ট্রেশন: সারা দেশের অ্যাথলেটদের জন্য সহজ অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ও বিস্তারিত প্রোফাইল সংরক্ষণের সুবিধা।
• রেকর্ড ও ইতিহাস: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সকল প্রতিযোগিতার সঠিক রেকর্ড এবং দেশের অ্যাথলেটিক্সের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ।
• স্মৃতিতে নক্ষত্ররা: দেশের প্রাক্তন স্বনামধন্য অ্যাথলেটদের অবদান তুলে ধরতে এবং তাদের স্মরণ করতে বিশেষ বিভাগ।
• প্রশিক্ষণ ও ক্যালেন্ডার: অ্যাথলেট এবং কোচদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ ম্যাটেরিয়াল এবং ফেডারেশনের বার্ষিক ইভেন্ট ক্যালেন্ডার যা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সরাসরি দেখা যাবে।
অ্যাথলেটদের সুরক্ষায় ‘সেইফগার্ডিং পলিসি’
ক্রীড়া ক্ষেত্রে অ্যাথলেটদের শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের হয়রানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রোধে ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সেইফগার্ডিং পলিসি’ বইয়ের উন্মোচন করে। অ্যাথলেটদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই নীতিমালার প্রধান উদ্দেশ্য।
এই নীতিমালা বাস্তবায়নে ফেডারেশনের পক্ষ থেকে একজন দক্ষ ‘সেইফগার্ডিং অফিসার’ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে যেকোনো অ্যাথলেট বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হয়রানি সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ বা সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন।
ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অবঃ) ড. মোঃ নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন “আমরা অ্যাথলেটিক্সকে একটি আধুনিক ও পেশাদার কাঠামোতে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। নতুন এই ওয়েবসাইট এবং সেইফগার্ডিং পলিসি আমাদের কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।










Discussion about this post