আনোয়ার হোসেন :
উৎসবমুখর পরিবেশে গাজীপুরের টঙ্গীর আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমিতে শুরু হয়েছে ২৬ দেশের অংশগ্রহনে প্রেসিডেন্টস চ্যালেঞ্জ কাপ আরচ্যারী টুর্নামেন্ট ও জয়েন্ট ট্রেনিং প্রোগ্রাম। চার দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক আসরের পর্দা নামবে আগামী ২ আগস্ট।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই টুর্নামেন্ট ও ট্রেনিং প্রোগ্রামের উদ্বোধন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।

যদিও এই আয়োজনে মোট ২৬টি দেশ বিভিন্নভাবে অংশ নিচ্ছে (খেলোয়াড়, কোচ ও টেকনিক্যাল অফিসিয়ালসহ), তবে মূল প্রতিযোগিতায় লড়ছে ১৭টি দেশ। প্রতিযোগিতা সীমাবদ্ধ থাকছে শুধুমাত্র রিকার্ভ ইন্ডিভিজুয়াল ও মিক্সড ইভেন্টে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী টঙ্গীর ভেন্যু ও পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, আরচ্যারীর জন্য যে ধরনের উপযোগী পরিবেশ প্রয়োজন, সেখানে কিছু ত্রুটি ও ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে আরচ্যারী ট্রেনিং একাডেমির পাশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং এলাকার সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে। এছাড়া তিনি বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে দ্রুত এর প্রতিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শব্দদূষণ রোধে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করেছেন। শুধু খেলাধুলা বা আরচ্যারী নয়, বরং ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন তথা সামগ্রিক জীবনযাত্রায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে সমষ্টিগত উদ্যোগ নিতে হবে। ক্রীড়াবান্ধব মানসিকতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়ার প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং আরচ্যারীর উন্নয়নে তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ এই আরচ্যারীর হাত ধরেই বড় কোনো গৌরব ও স্থান দখল করবে।
অনুষ্ঠানে ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের নতুন সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দীন আহমেদ চপল তাঁর অভিজ্ঞতা ও লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ওয়ার্ল্ড আরচ্যারী এশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর মেয়াদ প্রায় আট মাস চললেও বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন মাত্র আট দিন হলো।
বাংলাদেশ আরচ্যারী ফেডারেশনের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফেডারেশন অতীতে যা বলেছে, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। অতীতের একটি স্মৃতির রোমন্থন করে তিনি জানান, তৎকালীন সময়ে সাফ গেমসে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন মাত্র একটি স্বর্ণপদক প্রত্যাশা করলেও, তিনি তার সাথে একটি শূন্য বাড়িয়ে মোট ১০টি স্বর্ণপদক উপহার দিয়েছিলেন। সবসময়ই তাদের প্রাপ্তি প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে।
ভবিষ্যতের বড় লক্ষ্যের কথা জানিয়ে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ‘ইনশাআল্লাহ আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, বাংলাদেশকে যদি অলিম্পিকে পদক জিততে হয়, হয়তো আমরা ২০২৮ এ পারব না, তবে ২০৩২ সালে আমাদের বর্তমান তরুণ ও যুব প্রজন্মকে নিয়ে আমরা ঠিকই বাংলাদেশকে অলিম্পিক পদকে ভূষিত করব।’
চার দিনব্যাপী এই যৌথ প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেশের আরচ্যাররা নিজেদের আন্তর্জাতিক মানে ঝালাই করে নেওয়ার দারুণ সুযোগ পাচ্ছেন, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জন্য আরও বড় সাফল্য বয়ে আনবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।









Discussion about this post