স্বাস্থ্য ডেস্ক
দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলেই কি পেটে অস্বস্তি শুরু হয়? কখনো গ্যাস, কখনো অ্যাসিডিটির জ্বালা— এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। বিশেষ করে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পেট খালি থাকলে অস্বস্তি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে বারবার ওষুধের ওপর নির্ভর না করে কিছু সহজ খাবার হাতের কাছে রাখতে পারেন। ক্ষুধা লাগলে অল্প পরিমাণে এসব খাবার খেলে পেট কিছুটা শান্ত রাখা সম্ভব।
মুড়ি বা খই
হালকা ক্ষুধা লাগলে এক মুঠো মুড়ি বা খই খেতে পারেন। পেটে অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে এগুলো উপকারী হতে পারে। দীর্ঘক্ষণ পেট খালি না রাখতেও মুড়ি বা খই সহজ খাবার হিসেবে রাখা যায়।
ডাবের পানি
ডাবের পানিতে প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যা শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এটি পান করলে শরীরে সতেজভাবও আসে। পেটের অস্বস্তি থাকলেও ডাবের পানি অনেকের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।
টক দই
টক দইয়ে থাকা উপকারী জীবাণু হজমে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমাণমতো দই খেলে হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে পারে। পেট খালি থাকলে অস্বস্তি হলে অল্প পরিমাণ দই খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
কলা
কলা পটাশিয়াম ও আঁশসমৃদ্ধ একটি সহজলভ্য খাবার। এটি পেটের ভেতরের দেয়ালে একটি সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করতে সাহায্য করে, ফলে অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমতে পারে।
মৌরি ও জোয়ানের পানি
পেট ফাঁপা বা গ্যাসের অস্বস্তি হলে সামান্য মৌরি বা জোয়ান চিবিয়ে খেতে পারেন। চাইলে এগুলো পানিতে ভিজিয়ে সেই পানিও পান করা যায়। ভারী খাবারের পর পেটের অস্বস্তি কমাতেও এটি অনেকে ব্যবহার করেন।
শসা ও তরমুজ
শসা ও তরমুজে পানির পরিমাণ বেশি। ফলে এগুলো শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে এবং পেটও কিছুটা ঠান্ডা রাখতে পারে। গরমের দিনে হালকা খাবার হিসেবে এগুলো বেছে নেওয়া যায়।
সবচেয়ে জরুরি পানি
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো দীর্ঘক্ষণ পেট খালি না রাখা। প্রতি দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরপর অল্প পরিমাণে পানি ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে।
তবে অতিরিক্ত মশলাদার ও ভাজাভুজি খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা জরুরি। নিয়ম মেনে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই পেটের অস্বস্তি নিয়ন্ত্রণে রাখার ভালো উপায়।










Discussion about this post