নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে নতুন কোনো বাজারে প্রবেশের জন্য তাদের নিজস্ব দীর্ঘ ও ধাপে ধাপে অনুসরণযোগ্য প্রক্রিয়া থাকায় সেবা চালু হতে কিছুটা সময় লাগবে বলে জানানো হয়েছে।
গতকাল (মঙ্গলবার) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে পেপ্যাল এখন বাংলাদেশে প্রবেশে আগ্রহী, তবে তারা হুট করে কোনো বাজারে ঢুকে পড়ে না। তারা অভ্যন্তরীণ আলোচনা, বিতর্ক এবং পরিচালনা পর্ষদ পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়।’
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কার্যক্রমের বিষয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফিং দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে লুৎফে সিদ্দিকী ছাড়াও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে সুশাসনের উন্নতি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আস্থা বেড়েছে। গত ডিসেম্বরে পেপ্যালের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেছে।
দাভোস সম্মেলনে লুৎফে সিদ্দিকী প্রায় ১৮ থেকে ২০টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট, আইএমএফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। লুৎফে সিদ্দিকী জানান, বাংলাদেশের বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের মিল থাকায় বাণিজ্য আরও সহজ হবে এবং শিগগিরই শুল্ক বিষয়ে ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে।
তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বীকৃতি পেয়ে বাংলাদেশ শ্রম সংস্কারে উন্নতি করছে। এই অর্থনৈতিক কূটনীতির ফলে দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আগামীতে শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন লুৎফে সিদ্দিকী।










Discussion about this post