আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর নাগাদ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসে। মূলত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে যে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আলোচনার খবরে তা কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
আন্তর্জাতিক বাজারে এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ১ দশমিক ৫২ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ২৫ ডলারে। অন্যদিকে, টেক্সাসভিত্তিক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ দশমিক ০৬ ডলার বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৬ দশমিক ০২ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল। গত মাসে তেলের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার আশায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল। পিভিএম অয়েল অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক তামাস ভারগা বলেছেন, দাম কমলেও বাজারে তেলের প্রকৃত সরবরাহ ঘাটতির বিষয়টি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার কারণে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সরবরাহ বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। শুধু মার্চ মাসেই বিশ্ববাজার থেকে দৈনিক ১০ দশমিক ১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ কমে গেছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও তেলের বাজারে চাপ কমাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় সরবরাহ স্বাভাবিক করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের অবরোধ এখন হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে ওমান উপসাগর ও আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে। জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর অন্তত দুটি জাহাজ প্রণালি থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি ট্যাঙ্কারকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কারণ সেগুলোর গন্তব্য ইরানি বন্দর ছিল না।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান গালফ অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দরগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে।
সব অনিশ্চয়তার মধ্যেও ইসলামাবাদ থেকে আশার বার্তা মিলছে। রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচক দল আবার পাকিস্তানে বৈঠকে বসতে পারে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই আলোচনা ব্যর্থ হলে তেলের দাম আবারও গত মার্চের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক তেলের মজুত যেভাবে কমছে, তার প্রভাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এবং তার পরেও স্থায়ী হতে পারে।
আইইএ তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী তেলের চাহিদা দৈনিক ৮০ হাজার ব্যারেল কমতে পারে এবং সরবরাহ দৈনিক ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।
অন্যদিকে, রাশিয়া কৃষ্ণসাগরের তুয়াপসে বন্দর দিয়ে এপ্রিল মাসে তেল রপ্তানি ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে ১ দশমিক ২৭ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।









Discussion about this post