নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মেট্রো-১ সার্কেল কার্যালয়ের ফিটনেস শাখাকে ঘিরে দীর্ঘবছর ধরে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে দালালচক্রের একটি সিন্ডিকেট।
চক্রের সঙ্গে বিআরটিএর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ থাকায় সাধারণ সেবাগ্রহীতারা হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।
স্থানীয় ও বিআরটিএ’র একাধিক সূত্রের দাবি, মোহাম্মদ রতন ওরফে ‘জামাই রতন’ এবং মোহাম্মদ রুবেল ওরফে ‘দূরদর্শী রুবেল’ নামের দুইজন বহিরাগত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে বিআরটিএ কার্যালয়ের বিভিন্ন শাখায় দালালি কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। বিশেষ করে ফিটনেস শাখায় তাদের অবাধ চলাচল ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সেবার জন্য বিআরটিএ কার্যালয়ে আসা গ্রাহকদের সঙ্গে প্রথমে ওই দুই ব্যক্তি যোগাযোগ করেন। পরে গাড়ির কাগজপত্রে সমস্যা রয়েছে—এমন কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে কাজ দ্রুত করে দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
অভিযোগের বিষয়ে ফিটনেস শাখার মোটরযান পরিদর্শক রনজিত কুমার দাস ও সহকারী মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ সিফাতের নামও উঠে এসেছে। তবে, বিআরটিএতে দালালচক্রের ইন্ধন দাতা হিসেবে ফিটনেস শাখার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, ফিটনেস শাখার ১২৭ নম্বর কক্ষসহ কার্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দালালদের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। এমনকি সরকারি সময়ের বাইরেও কথিতভাবে বিভিন্ন কাজ পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মোটরযান পরিদর্শক ( ফিটনেস শাখা) রনজিত কুমার দাস বলেন, এরকম কিছু ঘটে নাই। বিআরটিএ’র সবার সাথে কথা বলে যদি প্রমাণ করতে পারেন তবে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন । আর আমার মাথা এখনো বিক্রি করি নাই। সবকিছু মিথ্যা প্রচারণা বলে দাবি করেন এই পরিদর্শক।
মেট্রো-১ সার্কেল কার্যালয়ের ফিটনেস শাখার সহকারি পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান শেখের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানকে দালালমুক্ত করতে হলে নিয়মিত নজরদারি, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ যাচাই এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক সুবিধা আদায় বা চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।










Discussion about this post