নিজস্ব প্রতিবেদক:
৭ কলেজের সব সেশনের শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ঢাকা কলেজের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন তারা।
এ সময় সিন্ডিকেটের দালালেরা, এই ক্যাম্পাসে হবে না; সেন্ট্রাল আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার; সেন্ট্রাল নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না; এফিলিয়েশন মুক্ত করো, রানিং সেশন যুক্ত করো; ইত্যাদি স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা কলেজের ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আলা ফাহাদ বলেন, আমরা যতবার আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, প্রত্যেকবার ঢাকা কলেজের এই মুক্ত ময়দান থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির স্লোগান উঠেছে। আজও একইভাবে আমরা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির রানিং সেশন, একাডেমিক মাইগ্রেশনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা এখানে সহাবস্থান করেছিল, সব ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা আমার ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিল। ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই শিক্ষা সিন্ডিকেটের একটি দল ঢাকা কলেজের প্রশাসনিক ভবন থেকে বেরিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসে যেসব শিক্ষার্থী অবস্থান করছিল, সব শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয় এবং আমাদের ঢাকা কলেজের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং বলে যে এখান থেকে কোনো বিক্ষোভ মিছিল বের হবে না।
তিনি বলেছেন, সরকার শিক্ষার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছেন। সে আইনের প্রেক্ষাপট ছিল রানিং সেশনগুলোর একাডেমিক জটিলতাকে নিরসন করে আমাদের যে পরিচয়হীনতা আছে, এই পরিচয়হীনতাকে দূর করা। প্রথমত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল কিন্তু যৌক্তিকতার খাতিরে আমরা যখন টেবিল টকে জিতে গেলাম, তখন সরকার এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস করেছে। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কাজ ছিল যাদের সমস্যার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, তাদের সমস্যা নিরসন করা। তারা সেই কাজ করছে না।
শিক্ষার্থীদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, রানিং সেশন অ্যাড করতে বলা হলে তারা জানান, ‘আমরা মতবিনিময় সভা শেষ করে আমরা তোমাদেরকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিব।’ মতবিনিময় সভা শেষ। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে যেখানে গণস্বাক্ষর নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গণস্বাক্ষরের ভিত্তিতে তো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হয় নাই। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে জনমতের ভিত্তিতে, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে। এই বিষয় তো সুরাহা সেদিনই হয়ে গিয়েছিল, যেদিন অধ্যাদেশ ঘোষণা হয়েছিল। তার পরও কেন বিষয়টি নিয়ে তালবাহানা করা হচ্ছে? আজকে আমাদের শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমরা ঢাকা কলেজের মূল ফটকের অবস্থান করছি।
তিতুমীর কলেজের সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে যারা রেলে হামলা এবং যাত্রীদের রক্তাক্ত করে ওই দুর্বৃত্তরাই সংবাদ সম্মেলন করে সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত থাকতে চাচ্ছে। তাদের জন্য আমরা আমাদের পরিচয় পাচ্ছি না।









Discussion about this post