প্রযুক্তি ডেস্ক
বর্তমান সময়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘পার্ট টাইম জব’ স্ক্যাম। ঘরে বসে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলছে একদল সাইবার অপরাধী। ইউটিউবে ভিডিও লাইক করা বা গুগল ম্যাপে রিভিউ দেওয়ার মতো সহজ কাজের কথা বলে শুরু হওয়া এই আলাপ শেষ পর্যন্ত আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ ব্যবহারকারীই এ ধরনের ভুয়া মেসেজ পাচ্ছেন।
প্রতারণার কৌশল যেভাবে কাজ করে
প্রতারকরা সাধারণত বিদেশি কোনো নম্বর (যেমন: +১, +২৩৪ বা +৬৩) থেকে মেসেজ দেয়। শুরুতে বিশ্বাস অর্জনের জন্য তারা খুব ছোট কাজের বিনিময়ে কিছু টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেয়। এরপরই শুরু হয় আসল খেলা। বড় আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তারা ‘সিকিউরিটি ডিপোজিট’ বা ‘ভিআইপি মেম্বারশিপ’-এর নামে বড় অংকের টাকা দাবি করে। একবার সেই টাকা পাঠালেই হ্যাকাররা লাপাত্তা হয়ে যায়।
ভুয়া চাকরির মেসেজ চেনার উপায়:
অপরিচিত নম্বর: কোনো আবেদন বা ইন্টারভিউ ছাড়াই হুট করে অপরিচিত নম্বর থেকে অফার আসা।
সহজ কাজ, বেশি বেতন: দিনে মাত্র ২-৩ ঘণ্টা কাজ করে ২০০০-৩০০০ টাকা আয়ের অবিশ্বাস্য প্রতিশ্রুতি।
জরুরি তাগাদা: “খুব দ্রুত জয়েন করুন” বা “স্লট বুক করুন”—এমন চাপ সৃষ্টি করা।
লিঙ্ক বা অ্যাপ: ফোনে বিশেষ কোনো অ্যাপ ইনস্টল করা বা লিঙ্কে ক্লিক করার জন্য জোরাজুরি করা।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন:
১. ব্লক ও রিপোর্ট: মেসেজ পাওয়ার সাথে সাথে কোনো লিঙ্কে ক্লিক না করে সংশ্লিষ্ট নম্বরটি ‘ব্লক’ এবং ‘রিপোর্ট’ করুন।
২. প্রাইভেসি সেটিংস: হোয়াটসঅ্যাপের Settings > Privacy > Groups-এ গিয়ে ‘My Contacts’ অপশনটি চালু রাখুন। এতে অপরিচিত কেউ আপনাকে হুট করে কোনো গ্রুপে অ্যাড করতে পারবে না।
৩. টাকা লেনদেন থেকে বিরত থাকুন: মনে রাখবেন, কোনো আসল কোম্পানি চাকরি দেওয়ার জন্য কখনো অগ্রিম টাকা দাবি করে না।
৪. সাইবার হেল্পলাইন: যদি প্রতারণার শিকার হন, তবে দেরি না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে জানান এবং স্থানীয় সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ দায়ের করুন।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কখনো নির্ভরযোগ্য চাকরি পাওয়া সম্ভব নয়। চাকরির জন্য সব সময় অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা লিংকডইন-এর মতো পেশাদার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।










Discussion about this post