মাসুদ রানা
ক্রীড়াঙ্গনের অতি পরিচিত ও নিবেদিত প্রাণ শামীমা সাত্তার মিমো। অ্যাথলেট, কোচ, জাজ, সংগঠক– ক্রীড়াঙ্গনের সকল ভূমিকায় তিনি জড়িয়ে ছিলেন। সকল বাঁধন ছিন্ন করে গতকাল (শুক্রবার) রাতে নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন।
মিমোর আকস্মিক প্রয়াণে ক্রীড়াঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া। অ্যাথলেট হলেও সকল খেলার সঙ্গে ছিল তার সম্পৃক্ততা। বিশেষ করে বিকেএসপির উপ পরিচালক প্রশিক্ষণ থাকায় দেশের অনেক কৃতী অ্যাথলেটের কাছে তিনি ‘মিমো’ ম্যাডাম। তাই মিমোর মৃত্যুতে সবাই অনেক বেশি শোকাহত। অ্যাথলেটিকস, আরচ্যারি, বিকেএসপিসহ অনেক ক্রীড়া সংগঠন ও ব্যক্তিত্ব মিমোর জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভার্টিগো ও হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েক মাস আগে হাঁটতে চলতে ও মানুষ চিনতে কষ্ট হতো। সেখান থেকে খানিকটা উন্নতি করে ক্রীড়াঙ্গনে ফিরছিলেন। এরপর কাল আকস্মিকভাবে চলে গেলেন। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী, ঢাকার বাসভবন থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দিনাজপুরে— যেখানে তার বাবার কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে হাইজাম্পে টানা দাপট ছিল তার। স্প্রিন্টেও রয়েছে পদক। জাতীয় অ্যাথলেটিকসে তার পদক সংখ্যা অসংখ্য। ২০০০ সালে পেয়েছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার। মিমো সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার খালাতো বোন। ক্রীড়াঙ্গনে কখনো তিনি এই সম্পর্কের প্রভাব খাটাননি বা সুবিধা নেননি।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর বিকেএসপিতে যান। দিনাজপুর বিকেএসপি তার নিজের হাতেই গড়া ছিল। বিকেএসপির চাকরি শেষে অ্যাথলেটিকস, আরচ্যারি ফেডারেশনের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। অ্যাথলেটিকসে জাজ হিসেবেও ছিলেন অনেক দিন। পুরো জীবনজুড়েই ক্রীড়াঙ্গনের সকলস্তরে কাজ করেছেন।










Discussion about this post