নিজস্ব প্রতিবেদক
ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর বর্জ্য এখনো অপসারণ করা হয়নি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে স্থানীয় ও পথচারীরা।
উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোরবানির ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও হাট কর্তৃপক্ষ তা মানেনি।
শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগানগর আমবাগিচা মাঠে লাগানো বাঁশখুঁটি এখনো খোলা হয়নি। বাবুবাজার ব্রিজের নিচে রাস্তার ওপর বাঁশ লাগানো রয়েছে। হাটের ভেতরের গোবর, কাদা মিশ্রিত খড় ও গো-খাদ্যের উচ্ছিষ্ট রাস্তার মধ্যে পড়ে আছে।
আমবাগিচায় রাস্তার ওপর ময়লার স্তূপ দেখা যায়। একই চিত্র জিনজিরা হাটেও। জনি টাওয়ারের সামনে সড়কের ওপর জিনজিরা হাটের ময়লার স্তূপ রাখা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, প্রতিবছর ঈদের এমন পরিস্থিতি দেখা যায়।
উপজেলা প্রশাসন ১২ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ ঘোষণা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আলটিমেটাম দিয়ে ‘ব্যর্থ’ উপজেলা প্রশাসন, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ঈদের তিন দিন পার হলেও আগানগর ও জিনজিরা হাটে রাস্তার মধ্যে কোরবানি বজ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভোগান্তিতে পড়ছে এলাকাবাসী ও পথচারীরা। পদক্ষেপ না নেওয়া সমস্যা স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
দ্রুত বর্জ্য অপসারণ করে রাস্তা মুক্ত করার দাবি জানান তারা।
রিকশাচালক মো. রসিক মিয়া জানান, হাট শেষ হলেও কোরবানি বজ্য এখনো রাস্তায়। এতে আমাদের চলাচল ভোগান্তি। দুর্গন্ধে পথচারী চলাচল করতে পারছে না। অনেক জায়গায় কোরবানির পশুর উচ্ছিষ্টাংশ অপসারণ করা হয়নি। কোথাও বর্জ্যের স্তূপ, কোথাও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পশুর নাড়িভুঁড়ি, খুর, শিং, চামড়ার অংশ ও রক্তাক্ত বর্জ্য।
আকাশ নামের এক পথচারী বলেন, কোরবানি হাটের বর্জ্য পচে দুর্গন্ধ বাতাসে মিশে পরিবেশ মারাত্মক বায়ুদূষণ করছে। দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হাঁটলে ভমি আসে। চরম ভোগান্তি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
আগানগর এলাকার বাসিন্দা সিয়াম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, ঈদের ছুটিতে মাঠে খেলাধুলা করব। কিন্তু ঈদের তিন দিন পার হলেও এখনো মাঠ থেকে কোরবানি হাটে বাঁশ খুলে নেওয়া হয়নি। সরকারের আছে আবেদন আমাদের মাঠ যাতে দ্রুত পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।
জিনজিরা হাটের ইজারাদার মোজাদ্দেদ আলী বাবুকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আগানগর হাটে ইজারাদার আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি শুধু নামে ইজারাদার। এই হাট থেকে দুই টাকাও হাত দিয়ে ধরি নাই। আগানগরের নেতা ঈমান উল্লাহ মাস্তান, শপু, ফজল খান, আসাদ মিয়া হাট নিয়ন্ত্রণ করেছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুক বলেন, যে ইজারাদার বর্জ্য অপসণে গাফিলতি করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।










Discussion about this post