নুরুল ইসলাম সেলিম, কক্সবাজার:
কক্সবাজার সদর উপজেলা ভারুয়াখালী – পিএম খালী পল্লী সেতুর নিমার্ণ শীর্ষক প্রকল্প( CI
BRR) আওতায় ”রশিদনগর আরএইচডি – খরুস্কুল জিসি ভায়া ভারুয়াখালী বাজার সড়কে ৪৭০০ মিঃ চেইনেজে ভারুয়াখালী ৩৯২ মিটার ব্রিজ ” নিমার্ণ কাজের জমি অধিগ্রহণ এবং এলাকাবাসী দ্বারা কাজ বন্ধ করার ফলে সরকারের উন্নয়ন মূলক কাজ ব্যাহত হওয়ার অফিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানান সাইডে থাকা তমা কনস্ট্রাকশন এর প্রকৌশলী ইয়াসিন।
তিনি জানান এই চলতি মৌসুমে সেতুর কাজটি দ্রুত সমাপ্ত করে এলাকার জনগনের চলাচলের পথ সুগম করে দেওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত কাজটি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। এই অবস্থায় স্হানীয় পিএমখালী এলাকার জমির মালিকগন অধিগ্রহণের টাকা না পাওয়ায় সেতুর কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমান চলমান কাজ বন্ধ করার ফলে সাইডে থাকা মালামাল, যন্ত্রপাতি, পাথর, গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টান তমা কনস্ট্রাকশনের মালিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিভিন্ন সময়ে স্হানীয় জমির মালিকেরা তাঁদের অধিগ্রহণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক, নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, ইউপি চেয়ারম্যান সহ গন্যমান্য এলকোর লোকজনের সামনে প্রকৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূণের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদানের আশ্বাস দিলে-ও টাকা না পাওয়ায় বার বার সরকারের উন্নয়ন মূলক কাজ বন্ধ করে বাঁধাগ্রস্হ করে যাচ্ছে।
স্হানিয় জমির মালিক আবুল কাসেম এর সহিত কথা বলে জানা যায় দীর্ঘদিন যাবত তাদের জমির অধিগ্রহণের টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাদের কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন রকম টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেননি বলে জানান। অন্যান্য জমির মালিকেরা কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নিকট দাবীকৃত টাকা পাওয়ার আশায় বুক পেতে ছিল। বলে জানান।কিন্তু তাদের বিষয়ে প্রশাসন কোন রকম কর্ণপাত কিংবা সহানুভূতি দেখাননি। জমির মালিকদের ৪ ধারা নৌটিশ প্রদান করলেও তাদের নায্য দাবীকৃত টাকা না পাওয়ায় সেতুর কাজ বাশঁ দিয়ে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেন বলে জানান স্হানীয় লোকজন।
ঠিকাদারী প্রতিষ্টান তমা কনস্ট্রাকশন এর ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন সহ সেতুর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান – জমির মালিকেরা সেতুর কাজে বাধাঁ প্রদানের ফলে কাজ বন্ধ রয়েছে। সেই বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
ভারুয়াখালী-পিএমখালী সেতু তিন বছর আগে কাজটি শুরু করলেও স্হানিয় ও প্রশাসনিক নানাবিধ জটিলতার কারণে কাজটি ধীর গতিতে চললেও চলতি মৌসুমে সেতুর কাজ পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছিল বলে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান।
উক্ত সেতুর কাজটি সরেজমিন খোঁজ-খবর নিতে কক্সবাজার ৩- আসনের সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল সহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ পরিদর্শন করে সেতুর কাজ শেয করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই বিষয়ে তমা কনস্ট্রাকশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সেতুর বিষয় নিয়ে জানান। কক্সবাজার সদর উপজেলার জোয়ারিখালের ওপর নির্মাণাধীন পিএমখালী-ভারুয়াখালী সেতুর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ৩৯২ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ বাস্তবায়ন এবং পরবর্তীতে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান বিভিন্ন সময়ে প্রশাসনিক কাজে জমি মালিক, স্হানীয় বিভিন্ন সমস্যা, বাঁধা মোকাবেলা করে কাজের ৮০ পারসেন্ট ব্রীজের কাজ শেষ করেছেন।
এই দীর্ঘ সময়েও সেতুটির কাজ বার বার জমির মালিকেরা তাঁদের অধিগ্রহনের টাকা না পাওয়ায় সেতুর কাজটি শেষ করতে পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।
এলাকার লোকজন জানান, পিএমখালী ও ভারুয়াখালীসহ আশেপাশের এলাকার হাজার হাজার জনগণ প্রতিনিয়ত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে খেয়া পারাপার বা বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করে কক্সবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয় বলে জানান। সেতুটির বর্তমান পরিস্থিতি এবং দীর্ঘসূত্রতার মূল কারণে দীর্ঘায়িত নির্মাণকাজ: ২০২১ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দে ৩৯২ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর কাজ শুরু হয়, যা তিন বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে পাঁচ বছর পার হয়ে গেলেও নানাবিধ প্রশাসনিক জটিলতার কারণে শেষ করতে পারেননি। যাতায়াত দূরত্ব সেতুটি হলে জেলা সদর থেকে মাত্র ৮-৯ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথ পাড়ি দিতে সাধারণ মানুষকে রামু বা ঈদগাঁও হয়ে প্রায় ৩০-৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক পথ ঘুরতে হবে না। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি তিন বার গাড়ি পরিবর্তন করতে না সাধারণ মানুষের। প্রতিদিন গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার বিকল্প হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধ্য হয়ে ছোট খেয়া নৌকা বা ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে নদী পার হচ্ছেন, যা বর্ষা মৌসুমে অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।তাই জরুরি সেবায় বিঘ্ন: সেতু না থাকায় গুরুতর অসুস্থ রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সহজে কক্সবাজার শহরের বাজারে সরবরাহ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।এ বিষয় গুলো নিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা কে মোটো ফোনে জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে জানতে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাদের নিকট থেকে বক্তব্য পাওয়া যাইনি।










Discussion about this post