Sunday, May 31, 2026
No Result
View All Result
Central News Station
Advertisement
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থ-বাণিজ্য
  • সারাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • আইন ও অপরাধ
  • অন্যান্য
  • আরও
    • লাইফস্টাইল
    • চাকরি
    • সাহিত্য
    • প্রবাস
    • বিদ্যুৎ জ্বালানি
    • মতামত
    • ধর্ম
    • সাক্ষাৎকার
No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থ-বাণিজ্য
  • সারাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • আইন ও অপরাধ
  • অন্যান্য
  • আরও
    • লাইফস্টাইল
    • চাকরি
    • সাহিত্য
    • প্রবাস
    • বিদ্যুৎ জ্বালানি
    • মতামত
    • ধর্ম
    • সাক্ষাৎকার
No Result
View All Result
Central News Station
No Result
View All Result

পহেলা বৈশাখ: প্রাণের উৎসবে বর্ষবরণ আজ

April 14, 2026
in জাতীয়
পহেলা বৈশাখ: প্রাণের উৎসবে বর্ষবরণ আজ
0
SHARES
0
VIEWS
Share on FacebookShare on Twitter

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা নববর্ষের প্রথম মাস বৈশাখ শুরু আজ। ১৪৩২ পার করে ১৪৩৩-এ পা দিলো এবারের বৈশাখ। বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণিল আয়োজনে এবারও বাংলা নববর্ষ উদযাপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। এবারের স্লোগান—‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। বাংলা নববর্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ। এ উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক মহতী লগ্ন। ইতিহাসের ধুলোবালি মাখা পথ পেরিয়ে বাংলা নববর্ষ আজ যে অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে, তা যেমন গৌরবের, তেমনি সংগ্রামের।

বাংলা নববর্ষকে আমরা যে কত আদরে-সোহাগে বরণ করে নিই, তার কোনো সীমা নেই। ছয় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ছয় ঋতুর ছয় রূপ। সব রূপেই মুগ্ধ হতে হয়। কালবৈশাখী কখনো কখনো মানুষের সব সম্ভাবনা, স্বপ্ন উড়িয়ে নিয়ে গেলেও বুনে নতুন স্বপ্ন, বুনে দেয় নতুন প্রত্যাশার বীজ। তাই মানুষ ঝড়ে ভেঙে পড়লেও নতুন তেজে বলীয়ান হয়ে সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়। ছয় ঋতু মানে গ্রীষ্ম দিয়ে শুরু। এরপর বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।

আজকের যে মাস এবং দিনগণনার বাংলা ক্যালেন্ডার, একসময় তা ছিল না। তখন ফসলি মৌসুম ধরে হতো বর্ষপঞ্জি। এতে কৃষকের পক্ষে খাজনা দেওয়া সহজ হয়। মোগল সম্রাট আকবর এই বর্ষপঞ্জিকা প্রবর্তন করেন। এতে কৃষকেরা খাজনা দিয়েও নবান্নের উৎসবে মাততে পারে। এ সময় ব্যবসায়ীরা তাদের পুরোনো হিসাব মিটিয়ে হালখাতা খোলেন। হালখাতা মানে নতুন হিসাবের খাতা। শৈশবে সবাই হালখাতার মানে বুঝত, বাবার পরিচিত দোকানগুলোতে বাবার সঙ্গে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি খাওয়া। এখন হালখাতার মানে সবাই বুঝি, নতুন বছরের হিসাব নতুন করে শুরু করা।

পৃথিবীর সব মানুষ নিজের কল্যাণ কামনা করে। সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি চায়। বাংলা সম্পর্কে চিরায়ত বাণী, ‘একদিন বাঙালি ছিলামরে।’ এই গৌরব আমরা ভালো-মন্দ, সুখে-দুঃখে সব সময় অক্ষুণ্ন রাখতে চাই। আমরা সব নববর্ষের নবপ্রাতে এবং সদা-সর্বদা আমরা যে বিশ্বমণ্ডলে বাস করি, সেই বিশ্বমণ্ডলকে সুখময়, শান্তিময় দেখতে চাই। যুদ্ধমুক্ত, মৃত্যু ও রক্তপাতহীন দেখতে চাই। যুদ্ধ যে কারণে সংঘটিত হয়, তার জন্য যারা জীবন দেয়, পঙ্গু হয়ে সারা জীবনের জন্য অচল হয়ে পড়ে, সভ্যতার যে ক্ষতি হয়; ধ্বংস হয়-তার জন্য এই পর্যুদস্ত, দুর্ভোগ এবং অভিশাপের জীবন যারা যাপন করে, তারা একটুও দায়ী নয়। আজ ইসরায়েলের কামানের গোলায়, বোমায় গাজায় যে নিরীহ নারী-শিশু, বৃদ্ধা-বৃদ্ধসহ শিশুরা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যে শিশু-নারী-পুরুষ প্রাণ দিচ্ছে, সভ্যতার সব নিদর্শন ধ্বংসপ্রাপ্ত হচ্ছে, নির্মম সত্য হিসেবে এর জন্য দায়ী ক্ষমতাবানদের ক্ষমতা প্রদর্শন, মুনাফার লোভ, শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন।

বাংলা নববর্ষের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে পাওয়া যায় এ দেশের কৃষি ও খাজনা আদায়ের এক চমৎকার সমন্বয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মোগল সম্রাট আকবরের আমলে হিজরি সন অনুযায়ী খাজনা আদায় করতে গিয়ে বেশ বিপাকে পড়তে হতো। চান্দ্র মাসের হিসাব কৃষকদের ফসল কাটার সময়ের সঙ্গে মিলত না বলে অসময়ে খাজনা দেয়া ছিল দুঃসাধ্য।

এ জটিলতা নিরসনে ১৫৮৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট আকবর তার রাজজ্যোতিষী ফতেহউল্লাহ সিরাজীকে একটি নতুন সৌর সন প্রবর্তনের দায়িত্ব দেন। ফসল কাটার সময়কে ভিত্তি করে তৈরি এই ‘ফসলি সন’ কালক্রমে আজকের ‘বাংলা সন’। মূলত অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই এই পঞ্জিকার জন্ম হয়েছিল।

এক সময় বৈশাখ মানেই ছিল গ্রাম ও শহরের ব্যবসায়ীদের ‘হালখাতা’ করার মহোৎসব। লাল সালুতে মোড়ানো নতুন হিসাবের খাতা খোলা হতো পহেলা বৈশাখে। পুরনো বছরের সব দেনা-পাওনা চুকিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে মিষ্টিমুখের মাধ্যমে গড়ে উঠত এক আত্মিক সম্পর্ক। আধুনিক ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হালখাতার সেই জৌলুস কিছুটা ম্লান হলেও, ঐতিহ্যের টানে আজও অনেক পুরান ঢাকা বা গ্রামবাংলার জনপদে টিকে আছে এই প্রথা।

‘পহেলা বৈশাখ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আমরা মূলত বাঙালি। আমাদের এই উৎসব কোনো বিশেষ ধর্মের নয়, এটি আপামর জনতার’— সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘদিনের লালিত এই চেতনা আজও অটুট।

পাকিস্তান শাসনামলে বাঙালি সংস্কৃতিকে যখন দমনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তখন পহেলা বৈশাখ হয়ে ওঠে প্রতিরোধের এক অনন্য হাতিয়ার। ১৯৬৭ সালে রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান কেবল একটি সংগীতানুষ্ঠান ছিল না, ছিল বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনেরই অংশ।

পরবর্তী সময়ে ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ এ উৎসবকে নতুন মাত্রা দেয়। অশুভ শক্তিকে বিনাশ আর কল্যাণের বারতা নিয়ে বের হওয়া এই পদযাত্রা ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর ‘বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়, যা পহেলা বৈশাখকে বৈশ্বিক মর্যাদায় আসীন করেছে।

বর্তমান সময়ে পহেলা বৈশাখ কেবল রমনার বটমূল বা চারুকলায় সীমাবদ্ধ নেই। দেশজুড়ে বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশের আমেজ আর নাগরদোলার শব্দে মুখরিত হয় জনপদ। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর যুগেও বাঙালির এই প্রাণের উৎসব হারায়নি তার জৌলুস। বরং বিদেশে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাঙালির মাধ্যমে পহেলা বৈশাখ এখন নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পহেলা বৈশাখ আজ বাঙালির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। জীর্ণ পুরাতনকে ধুয়ে মুছে দিয়ে নতুনের আহ্বানে বাঙালি আজও গেয়ে ওঠে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরের মতোই আয়োজিত হবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে ধারণ করে বৃহৎ পরিসরে সর্বজনীন অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শোভাযাত্রার থিম ও মোটিফে ফুটে উঠবে আবহমান বাংলার লোকজ সংস্কৃতি। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে নির্মিত বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রাকে দেবে এক অনন্য মাত্রা। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তা- অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।

এবারের শোভাযাত্রায় ‘মোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া’- এই পাঁচটি মোটিফ বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। লোকজ প্রতীকের ধারায় এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজন, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। প্রতিটি মোটিফেই প্রতিফলিত হবে বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীর অনুষঙ্গ। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনায় জাতীয় সংগীত, ‘এসো হে বৈশাখ’ এবং দেশাত্মবোধক গান শোভাযাত্রার আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলবে। এতে অংশ নেবে ২০০ জন শিক্ষার্থী, যারা বহন করবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করবেন বর্ষবরণের গান, যা দীর্ঘদিন ধরেই এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

অন্যদিকে, উদীচী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তোপখানা রোডে আড্ডা, গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে বর্ষবরণ করবে। বিকেল ৪টায় তাদের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য-‘বৈশাখের রুদ্র-রোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। ‘বাংলার হারিয়ে যাওয়া আনন্দ মিলে যাক বৈশাখে’-এই প্রতিপাদ্যে আর্ট পিক্স ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত পুতুলনাট্য উপস্থাপন করবে। রাজধানীর বিজয় স্মরণীর বাংলাদেশ মিলিটারি মিউজিয়াম (গেট নং-২) প্রাঙ্গণে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে।

বাংলা নববর্ষকে বরণ করতে রাজধানীর ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে বসছে হাজারো কণ্ঠের মিলনমেলা। চ্যানেল আই এবং সুরের ধারার যৌথ আয়োজনে পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) ভোর ৫টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে ‘হাজারও কণ্ঠে বর্ষবরণ’।

বাংলা নতুন বছর ১৪৩৩ স্বাগত জানাতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সুরের ধারার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা অংশ নেবেন। সম্মিলিত কণ্ঠে বাংলা গানের সুরে মুখর হয়ে উঠবে পুরো প্রাঙ্গণ।

এবারের আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করবেন দেশের খ্যাতিমান শিল্পীরা। তাদের মধ্যে আছেন রফিকুল আলম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, কিরণ চন্দ্র রায়, কোনাল ও লুইপাসহ তরুণ প্রজন্মের আরও অনেক শিল্পী।

বর্ষবরণ উপলক্ষে রবীন্দ্র সরোবরে থাকবে বৈশাখী মেলার আয়োজনও। মেলায় পাওয়া যাবে নানান ধরনের তৈজসপত্র, ঐতিহ্যবাহী মাটির খেলনা এবং নাগরদোলাসহ গ্রামীণ সংস্কৃতির নানান উপকরণ।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও নতুন প্রত্যয়ের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ আমাদের সবার জন্য হয়ে ওঠে এক আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন। অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে চলি নব উদ্যমে ও নব প্রত্যয়ে।

আগামীকাল বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি পহেলা বৈশাখের এই শুভক্ষণে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানান। এই উৎসবমুখর দিনে প্রিয় দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে তিনি নববর্ষের উষ্ণ শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে যে বাংলা সনের যাত্রা শুরু, সেই ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির সূচনা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আজ আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরো সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হবো-এই প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নববর্ষের এই উৎসব ও আনন্দমুখর মুহূর্তে আন্তরিক প্রত্যাশা-সকল অশুভ ও অসুন্দর দূরীভূত হোক; সত্য ও সুন্দরের গৌরবগাথা প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সকল দুঃখ-বেদনা মুছে যাক; নতুন বছর ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।’

এই আনন্দঘন দিনে রাষ্ট্রপতি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আসুন, আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করি; ভেদাভেদ ভুলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলি।’

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে প্রতি বছর ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে। নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

‘পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলা ১৪৩২ সালকে বিদায় জানিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ কে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের সঙ্গে আমাদের এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সম্পর্ক নিবিড়। তথ্যপ্রযুক্তির এই সুবর্ণ সময়েও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কৃষক তাঁর ফসল উৎপাদনের দিনক্ষণ ঠিক করে। বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা পহেলা বৈশাখের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈশাখি মেলা, বৈশাখি শোভাযাত্রা, হালখাতার মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্যকে তুলে ধরে এবং আমাদেরকে ঐক্যবোধে উজ্জীবিত করে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সামনে এনেছে নতুন প্রত্যাশা ও নতুন সম্ভাবনা। প্রকৃতির নবজাগরণ আর মানুষের অন্তরের আশাবাদ মিলেমিশে সৃষ্টি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শোষণ-শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যাত্রা শুরু করে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার। দায়িত্ব নিয়েই এই সরকার রাষ্ট্র এবং সমাজের সব শ্রেণি পেশার মানুষের জীবন মানোন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি চালু, ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষক, কৃষি এবং কৃষি অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকে শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচি। আগামী দিনগুলোতে এই কৃষক কার্ড বাংলাদেশের কৃষক এবং কৃষি অর্থনীতিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে, বাংলা নববর্ষে এটিই হোক আমাদের প্রত্যয় ও প্রত্যাশা।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের যার যার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ এবং সংস্কৃতির অন্তর্নিহিত সহনশীলতা, উদারতা ও সম্প্রীতির চর্চা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বহুমতের সহাবস্থানকে সুদৃঢ় করবে। বিশ্ব আজ নানা সংকট ও সংঘাতে বিপর্যস্ত। এই প্রেক্ষাপটে শান্তি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। নববর্ষের এই শুভক্ষণে আমরা যেন সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবকল্যাণের পথ অনুসরণ করি- এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে আমরা অতীতের সব হতাশা ও সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নববর্ষ সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। দেশবাসীকে তিনি আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

বাংলা নববর্ষে দেশবাসীকে জামায়াত আমিরের শুভেচ্ছা

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসী ও প্রবাসীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

শুভেচ্ছা বাণীতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মহাকালের পরিক্রমায় আমাদের দুয়ারে সমাগত আরও একটি বাংলা নববর্ষ। এবারের নববর্ষ আমাদের জীবনে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে এসেছে।

বাংলা নববর্ষে দেশ ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভাই-বোনদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মাধ্যমে প্রিয় দেশ ও জাতিকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করার আপোষহীন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হোক আমাদের অঙ্গীকার। আসুন সবার জন্য ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে একধাপ এগিয়ে যাই।

বিবৃতির শেষে জামায়াত আমির দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন।

Share this news as a Photo Card

Generating high-quality image, please wait...
Previous Post

রমনা বটমূলে বোমা হামলা: ২৫ বছরেও শেষ হয়নি বিচার

Next Post

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ

Related Posts

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জাতীয়

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঈদে ৭ দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত
জাতীয়

ঈদে ৭ দিনের ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন নগরবাসী
জাতীয়

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছেন নগরবাসী

Next Post
রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ

রমনার বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণ

Discussion about this post

Plugin Install : Widget Tab Post needs JNews - View Counter to be installed
  • Trending
  • Comments
  • Latest
রামিসার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী

রামিসার হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে: আইনমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধ ‘সমাপ্ত’ ঘোষণা ট্রাম্পের

ইরানে যুদ্ধে আমাদের যাওয়া উচিত হয়নি: ট্রাম্প

ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে ফিফা বিশ্বকাপ

ইউটিউবে বিনামূল্যে দেখা যাবে ফিফা বিশ্বকাপ

ভাড়া বাসা থেকে নানি ও ২ নাতির মরদেহ উদ্ধার

ভাড়া বাসা থেকে নানি ও ২ নাতির মরদেহ উদ্ধার

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য থাকবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধান সম্পাদক : কুদরাত -ই-খোদা

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : রুবেল গাজী

ই-মেইল: [email protected]
  • বিদ্যুৎ জ্বালানি
  • আইন ও অপরাধ
  • সাক্ষাৎকার
  • সাহিত্য
  • মতামত
  • অন্যান্য

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

14 April 2026

পহেলা বৈশাখ: প্রাণের উৎসবে বর্ষবরণ আজ

centralnewsstation.com
No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থ-বাণিজ্য
  • সারাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • আইন ও অপরাধ
  • অন্যান্য
  • আরও
    • লাইফস্টাইল
    • চাকরি
    • সাহিত্য
    • প্রবাস
    • বিদ্যুৎ জ্বালানি
    • মতামত
    • ধর্ম
    • সাক্ষাৎকার