মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:
মুন্সীগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মুন্সিগঞ্জ লঞ্চঘাটে মনসা পূজা উপলক্ষে ২১৩তম দশমী ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা শহরের হাটলক্ষীগঞ্জে স্থানীয়ভাবে ‘দশমী মেলা’ নামেও পরিচিত। এ মেলার আয়োজনের জন্য ৩০ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে মর্মে দাবি আয়োজকদের।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সভাপতি এ কে এম ইরাদত হোসেন মানু এবং সাবেক কাউন্সিলর লিটনের নেতৃত্বে মোটা অংকের অর্থের বিনিময় এমেলার অনুমোদন করানো হয়েছে বলে সুশীল মহলের দাবি। সমাজ ও সুশীল জনের মন্তব্য মতে একটি শহরের প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে এই মেলার কোন অর্থ বহন করে না। এছাড়াও এ সড়কের পাশে ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। সেই কাজটি সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে এবং জন চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যাহা সম্পূর্ণ জুলুমের সামিল।
বর্তমান সরকারের সংকটময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় এই অস্থায়ী মাসব্যাপী মেলায় ব্যাপক অবৈধ বিদ্যুৎ অপচয় বা খরচ হবে বলে মনে করে বিশেষজ্ঞরা।রাস্তা বন্ধ, পাশেই ব্যাংকে যাতায়া বিঘ্ন, মাদক বিক্রির গোপন সিন্ডিকেট সচল হওয়া এবং আশেপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার ব্যাঘাত ঘটা, নানা প্রতিকূলতায় এই মেলাকে ভালোভাবে নিতে পারছে না স্থানীয় শিক্ষক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, পেশাজীবীসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ।
তাছাড়া ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জ জেলা শহরের যোগাযোগের মাধ্যম লঞ্চ, সেই লঞ্চঘাট থেকে কোট-কাচারি, ডিসি অফিসসহ সকল প্রকার দপ্তরের যাতায়াতের প্রধান সড়ক এটি। পথচারীদের দাবি এই প্রধান সড়কটি এইভাবে বন্ধ করে এত বড় বিশাল মেলার আয়োজন করা সম্পূর্ণই অনৈতিক।
মেলায় ব্যবসা করতে আশা ব্যবসায়ী দোকানদাররা জানান, প্রতি ফুট জায়গার জন্য তাদের প্রতিদিন গুনতে হবে সর্বনিম্ন দেড়শ টাকা থেকে পাঁচশত টাকাও অধিক। যাহা ব্যবসায়ীদের সাধ্যের বাইরে বলে মনে করছেন তারা। ছোট্ট একটি স্টলের ভাড়া এক মাসের জন্য কমপক্ষে পয়তাল্লিশ হাজার টাকা নির্ধারণ হয়েছে বলে দাবি দোকানদারদের, যাহা ডিজিটাল চাঁদাবাজির মধ্যে পরে।
এবিষয়ে মেলা পরিচালনা পরিষদের পরিচালক সেলিম চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে প্রতিবছর এই মেলাটা উদযাপিত হয়ে থাকে আমরা সেই লক্ষ্যেই, এ বছরও আয়োজন করেছি। প্রশাসনিক অনুমোদন আছে কিনা? জবাবে তিনি বলেন এ বিষয়ে মিজান ভাই জানে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ তাই পুরো বিষয়টা জানিনা।
মেলা পরিচালনা পরিষদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজান হোসেন এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমে আমাদের প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না, পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মেলা আয়োজন বন্ধ করে দেয়। তখন আমরা জেলা অফিসে যোগাযোগ করে মেলা পরিচালনার জন্য ৩০ দিনের অনুমোদন নিয়েছি। অনুমোদনটি কার নামে হয়েছে, সে বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তুষার আহমেদ ভাইয়ের নামেই এই মেলার অনুমোদন হয়েছে। তিনি বর্তমানে ওমরা হজ্বর জন্য দেশের বাহিরে, সৌদি আরবে অবস্থান করছে, খুব শীঘ্রই দেশে ফিরবে। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অনুমোদন হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মেলাটি বিগত তিন বছর বন্ধ ছিল। আমরা এই বছর পুনরায় মেলাটি চালু করেছি, কিন্তু পূর্বে যারা এই স্থানে মেলা পরিচালনা করত তারা এ বছর মেলার অনুমতি/সুযোগ না পেয়ে, আমাদের নামে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে। এছাড়াও অনুমোদন পত্র চেয়ে পাঠালে তাহা দিতে ব্যর্থ হন।
সাবেক কাউন্সিলর লিটনের নিকট জানতে চেয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এ মেলার সাথে তার কোন সম্পর্ক নেই। পরক্ষণই তিনি বলেন আমি সাবেক তিনবারের কাউন্সিলর ছিলাম তো এখানে যা কিছুই হয় আমার নলেজে দিয়েই হয়। এই বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে মুঠোফোনটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এর আগে উপজেলা প্রশাসনের সূত্রের বরাত দিয়ে মেলা বন্ধের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। অনুমতি ছাড়া আয়োজন করা মেলা বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। জানা গেছে, মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও এ মেলার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে কোনো অনুমতির তথ্য ছিল না। বিষয়টি জানতে পেরে মেলা বন্ধের নির্দেশ দেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী।
মুন্সিগঞ্জ পরিষদের প্রশাসক ও সভাপতি এ কে এম ইরাদত হোসেন মানু এ নিকট জানতে চেয়ে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও ফোন কলটি তিনি রিসিভ করেনি।
এবিষয়ে জানতে চায়ে, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এর অফিসিয়াল মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সে মুঠোফোনটি রিসিভ করেননি। পরবর্তী সংবাদের জেলা প্রশাসকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তাহা গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে।









Discussion about this post