নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযানে নেমে পুলিশ বলছে, সুনির্দিষ্ট জীবিকা না থাকা ‘ভাসমান লোকজনই’ ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত।
এজন্য রাজধানীর অপরাধপ্রবণ এ এলাকায় থাকতে হলে তাদের বৈধভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে, অন্যথায় এলাকা ছাড়তে হবে বলে পুলিশের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রোববার রাতে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড় থেকে ‘চিরুনি অভিযানে’ নামে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ‘মোকাবিলায় প্রস্তুতি বাড়াতে’ অর্ধশতাধিক সদস্যের অংশগ্রহণে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হয়।
মধ্যরাতে এ অভিযানের বিষয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ‘‘এই মোহাম্মদপুর এলাকায় বিশেষ করে রায়েরবাজার থেকে বেড়িবাঁধ এলাকায় যে অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটে, এরা বেশির ভাগই ভাসমান।’’
“বিভিন্ন জায়গা থেকে এরা আসে, আশেপাশের উপজেলা থেকে আসে, দূরবর্তী জেলা থেকেও এখানে অনেকে অনেক কাজ করে। যাদের হয়তো স্পেসিফিক কোনো জীবিকা নেই- এরাই ছিনতাইয়ের কাজে যুক্ত থাকে, এরাই কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন সদস্য হিসেবে লিপ্ত থাকে।”
তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তারা এখানে বৈধভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করবে, অবৈধ কোনো কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবে না…না হলে এলাকা তাদের ছাড়তে হবে।”
এ সময় তিনি মোহাম্মদপুরে ‘অনেক আগে থেকেই এই চিরুনি অভিযান’ পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানান।
গেল এক সপ্তাহে দুটি খুনের ঘটনার প্রেক্ষিতে আবার অভিযানে নামার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিক দুটি মার্ডার মামলায় ডিটেক্ট করে আসামি ধরেছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে।”
পুলিশের ঊর্ধ্বতনদের তরফে মোহাম্মদপুরকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনার থাকার কথাও বলেন তিনি।
“বসিলায় আমাদের একটি ক্যাম্প রয়েছে, এই ক্যাম্পের জনবল যা ছিল তার চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। এই ক্যাম্পে এখন দুই প্লাটুন এপিবিএন, মানে ৬৬ জন এপিবিএন আমাদের দেওয়া হয়েছে,” যোগ করেন এই উপপুলিশ কমিশনার।
এরপর থেকে এপিবিএন সদস্যরা মোহাম্মদপুরের সব অভিযানে থাকবে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য এপিবিএনকে কাজে লাগাবো এবং এই মোহাম্মদপুরে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যারা ঘটাচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আমরা আনার চেষ্টা করবো। এই চেষ্টা আমাদের আগামীতে অব্যাহত থাকবে।”
বসিলার পুলিশ ক্যাম্পে জনবল বাড়ানো হয়েছে, সামনে এটিকে থানায় রূপান্তরিত করার জন্য ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলেও তুলে ধরেন তিনি।
ইবনে মিজান বলেন, “যেহেতু এই এলাকাটি থানা থেকে একটু দূরে এবং এখানে অভিযান পরিচালনা করা একটু কষ্টসাধ্য। এই এলাকায় একটি থানা জনগণেরও দাবি। সেই সাথে আমরাও এটি অনুধাবন করেছি এলাকায় একটি থানা হলে এখন যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আছে এর চেয়ে হয়তো আরেকটু ভালো রাখতে পারব।”









Discussion about this post