নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের দুর্ভোগ কমাতে ও আইনি নথি আদান প্রদান ত্বরান্বিত করতে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে চালু হতে যাচ্ছে নৈশকালীন ডাকসেবা। ডাকঘর অধিদপ্তর আগারগাঁও থেকে গত ১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের এক নির্দেশনায় এই বিশেষ উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে বিদ্যমান সাব পোস্ট অফিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় এই সেবা প্রদানের সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে গ্রাহকদের চাহিদা ও সরকারি কাজের গতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পত্রটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মেট্রোপলিটন সার্কেল ঢাকা বরাবর পাঠানো হয়েছে। ডাক অধিদপ্তর থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে নৈশকালীন সেবা চালুর পর আগামী তিন মাস এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী একটি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
আইনি নথি প্রাপ্তিতে বিলম্ব এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এই উদ্যোগের সূচনা হয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড এস এম আরিফ মণ্ডল সাব পোস্ট অফিসের পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন বা বি গ্রেড ডাকসেবা চালুর জন্য ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতেই এখন বাস্তব রূপ পেতে যাচ্ছে এই সেবা।
প্রস্তাবিত এই নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত ডাক সেবা পাওয়া যাবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এটি চালু হলে উচ্চ আদালতের আদেশ ও গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিগুলো অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট আদালত ও বিচারপ্রার্থীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে। বিশেষ করে ফৌজদারি মামলার জামিন আদেশ দ্রুত জেলা জজ আদালতে পৌঁছানোর ফলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কারামুক্তি প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে।
বর্তমানে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণের সাব পোস্ট অফিসটি দুপুর দুইটা পর্যন্ত সেবা দিয়ে থাকে। অফিসের সময়সীমা সংক্ষিপ্ত হওয়ায় অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র একই দিনে পাঠানো সম্ভব হয় না। এতে বিচারপ্রার্থীদেরকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আদালতের ডেসপ্যাচ শাখার কাজের চাপ অনেকটাই কমে আসবে এবং প্রতিদিনের আদেশ একই দিনে প্রেরণ করা সম্ভব হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম আরিফ মণ্ডল। তিনি জানিয়েছেন, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলামের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে এই সেবা চালুর পথ সুগম হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন নৈশকালীন ডাকসেবা চালু হলে বিচারপ্রার্থীরা দ্রুত সেবা পাবেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই দূর হবে।









Discussion about this post