পিরোজপুর প্রতিনিধি
পিরোজপুর -২ আসনে বিএনপির চাইতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ‘মোঃ মাহমুদ হোসেন বেশি জনপ্রিয়।
পিরোজপুর ২ সংসদীয় আসনে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা ও সাধারণ জনমত জরিপে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে যে, বিএনপির প্রতীকের তুলনায় স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতীকের প্রতি মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ সাধারণ মানুষের কাছে একটি আস্থাশীল, নির্যাতিত ও নীতিগত রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
পিরোজপুর ২ ভান্ডারীয়া, কাউখালি ও নেছারাবাদ মানুষদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা মোঃ মাহামুদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মাঠের রাজনীতি, সাংগঠনিক ভূমিকা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার কারণে এই আসনের জন্য একজন শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট, অতীত ভূমিকা পরিচ্ছন্ন এবং জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের,যা তাকে মানুষের কাছে আস্থার জায়গায় নিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা দলটির প্রার্থী, আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন একজন ভান্ডারীয়া উপজেলার সভাপতি হিসেবে পরিচিত হলেও, পিরোজপুর – ২ আসনের সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে তাদের পছন্দের তালিকায় রাখতে পারছেন না।
স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার রাজনৈতিক ভূমিকা ও অতীত অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। অনেকেই অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তখন তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলনামূলকভাবে প্রশ্নের বাইরে ছিল। জনসাধারণের একটি অংশ মনে করেন, সে সময় তিনি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সমঝোতামূলক অবস্থানে ছিলেন।
এছাড়াও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পুরোনো ভিডিও ও বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে।
কেউ কেউ অভিযোগ করেন, কিছু বক্তব্যে তিনি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন, যা সাধারণ ধর্মপ্রাণ ও সচেতন মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
আবার অনলাইন ভিডিওতে তার বক্তব্য ও আচরণে মুরুব্বি প্রতি অসম্মানজনক ভঙ্গি দেখা গেছে এবং , পিরোজপুরে – ২ আসনের রক্ষণশীল সমাজে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
এই সব কারণ মিলিয়ে পিরোজপুর ২ আসনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার মনে করছেন, শুধু বক্তৃতার জনপ্রিয়তা নয়, বরং ত্যাগ, নির্ভরযোগ্যতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্টতাই একজন সংসদ সদস্যের মূল যোগ্যতা। সে বিবেচনায় আলহাজ্ব আহমেদ সোহেল মনজুর সুমন, তুলনায় মোঃ মাহমুদ হোসেন,স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য ও প্রত্যাশিত প্রার্থী।
সব মিলিয়ে বর্তমান জনমত ও মাঠপর্যায়ের আলোচনায় পিরোজপুর -২ আসনে বিএনপির প্রতীক চেয়ে ও মোঃ মাহমুদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী দিকেই জনগণের আস্থা ও সমর্থন বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে,যা আসন্ন নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।










Discussion about this post