নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর প্রাণপ্রবাহ ও ঐতিহ্যের প্রতীক বুড়িগঙ্গা নদী আজ ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এক অপরূপ ও প্রবহমান রূপ নিয়ে ধরা দিলেও এর দুই তীরের পরিবেশ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর পানি প্রবহমান ও স্বচ্ছ হলেও তীরবর্তী এলাকায় অসচেতনতার কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কেরানীগঞ্জ বেড়িবাঁধ পারের বিভিন্ন পয়েন্টে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ ও বর্জ্য অপসারণের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে, যা নদীর পরিবেশকে আরও বেশি দূষিত করে তুলছে। নদীর দুই পাড়ে এভাবে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক ফেলার প্রবণতা রোধে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর তীরসংলগ্ন ফুটপাতের কিছু চায়ের দোকান, পলিথিনের দোকান ও স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য অপসারণ না করে সরাসরি নদীর জলে বা পাড়ে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বুড়িগঙ্গা নদী কেবল একটি জলপথ নয়; এটি আমাদের মায়ের মতো আগলে রাখার এক ঐতিহাসিক ও জীবনিকা শক্তি। এই নদীকে রক্ষা করা এবং এর পবিত্রতা বজায় রাখা আমাদের সকলের সম্মিলিত নৈতিক দায়িত্ব।
বুড়িগঙ্গার পানির এই টলটলে ও সতেজ রূপটি চিরদিন যেন টিকে থাকে এবং এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাণপ্রবাহ কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়—এটাই আমাদের প্রাণের দাবি। বুড়িগঙ্গাকে দূষণের কবল থেকে মুক্ত রাখতে এবং অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত মনিটরিং বা ফলোআপ জোরদার করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। নদী রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশের আরও বড় ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।










Discussion about this post