আনোয়ার হোসেন :
গত ৫ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ ২০২৫-২৬ (বিসিএল) এর দ্বিতীয় পর্বে খেলা শুরু হয়েছে ১০ ক্লাবকে নিয়ে।
রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দুরে তিনটি মাঠে চলছে খেলাগুলো (বসুন্ধরা এরিনা প্র্যাকট্রিস গ্রাউন্ড, জলসিঁড়ি ফটিস গ্রাউন্ড ও গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়াম)।
নানা অনিয়মে ভরা ও দর্শকবিহীন মাঠে অনেকটা দায়সারা এই প্রথম শ্রেনীর ফুটবল আসরটিতে ম্যাচ কাভার করতে কোনো ক্রীড়া সাংবাদিককে দেখা যায় নাই।
মজার ব্যাপার হলো- পুরো লিগের খেলার খবর খুব একটা পত্রপত্রিকায় ছবি সহ প্রচারও তেমন একটা দেখা চোখে পরে না। এতে ফুটবলারদের পারফরমেন্স, খেলার ছবি ও প্রচার প্রচারনা একেবারেই শুন্যের কোঠায়। এতে হতাশ ফুটবলাররা।
বাফুফের ব্যবস্থাপনায় এই প্রথম শ্রেনীর ফুটবল লিগের ছবি বিহীন তিন থেকে চার লাইনের ফলাফল বাফুফে মিডিয়া কমিটি তাদের হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে প্রচার করে থাকেন। ফলে সেই খবর খেলায় পাতায় প্রচার সম্ভবপর হয়ে উঠে না। যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রচারবিহীনই থেকে যাচ্ছে বিসিএলের খবরাখবর।
অন্যদিকে খোলা চলাকালিন মাঠে অনেকটাই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে খেলা পরিচালনা করতে হয় রেফারিদের।
অপরদিকে, মাঠে খেলোয়াড় ছাউনিতে নেই কোন বাছবিচার। পরিচিত -অপরিচিত যে কেউ এই ছাউনিতে বসে খেলা দেখার সুযোগ পান।
অন্যদিকে খেলার মাঠে ফলাফল স্ট্যান্ড এ নেই কোন পেশাদার লোকবল। টোকাই কিশোর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে ফলাফল স্ট্যান্ডটি। এতে খোলা বিশাল মাঠে তীব্র বাতাসে উড়ে যায় স্ট্যান্ডের ফলাফল সংখ্যা! মাঠের আশপাশে বিরতির সময় এক কাপ চা খাওয়ার কোন সু-ব্যবস্থাও।
নেই খেলার ছবি তোলার মতো একজন প্রফেশনাল ফটোগ্রাফারও। অনেকটা হযবরল অবস্থায় চলছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় “বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ ২০২৫-২৬ মৌসুম।
এদিকে গত ১৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার জলসিঁড়ির ফটিস গ্রাউন্ডে ১৩ তম রাউন্ডের ৬৩ তম ম্যাচে লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাব বনাম খেলাঘর সমাজকল্যান সমিতির গুরুপূর্ণ ম্যাচে ফিফার নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে খেলার শেষ বাশি বাজান রেফারি। ফুটবলের আইনকে ফলো করেন নি খোদ ম্যাচ কমিশনার মহোদয়ও। ম্যাচটি উভয় দলের জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ন ছিলো।
উত্তেজনাপৃর্ন খেলার ২৩ মিনিটে রেফারির বাশিঁতে লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবের আলমগীর ফ্রি কিক এ গোল করলে তা মানতে অস্বীকৃতি জানায় খেলাঘরের খেলোয়াড় ও অফিসিয়ালরা। বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এক পর্যায়ে খেলাঘরের ফুটবলারের এক অংশ মাঠের বাইরেও চলে আসেন। রেফারির বিশেষ অনুরোধেও খেলাঘরের ফুটবলাররা প্রায় ১৪ মিনিট খেলা বন্ধ রাখেন। পুনরায় খেলা শুরু হলে রেফারি ১০ মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করে প্রথমার্ধ্বের খেলা শেষ করেন। পরে ৯০ মিনিটের খেলায় খেলাঘর ৫ -১ গোলে জয়লাভ করে লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবের বিপক্ষে।
এখন প্রশ্ন, রেফারি কি ফুটবল আইন কানুন মেনে খেলার পরিসমাপ্তি করেছেন??
ফিফা আইনে আছে- ফুটবল ম্যাচ চলাকালিন যদি কোন দল রেফারীর সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে খেলা পরিচালনা করতে বাধা প্রদান করেন তা হলে ফিফা আইন গুরুতর অপরাধ হিসেবে গন্য হবে। শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে দোষী দলকে ৩-০ গোলে হারানো অথবা ম্যাচ পরিত্যক্ত অথবা পয়েন্ট কেটে দেয়া। কিন্তু এই আইন কে পাশ কিটিয়ে খেলার ফলাফল দোষে ক্লাবের পক্ষে দেয়ায় প্রশ্নবৃদ্ধ এখন বিসিএল চলতে মৌসুম। অবশ্য লিটিল ফ্রেন্ডস ক্লাবের ম্যানেজার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বরাবর খেলায় অনিময়ের একটা অভিযোগ পত্র পাঠিয়েছেন। এখন দেখার বিষয় কি আইনি ব্যবস্থা নেন লিগ কমিটি। আর বিসিএলের নানা অব্যবস্থাপনার কতটা দ্রুত সমাধান দেন বাফুফে।










Discussion about this post