মাসুদ রানা, নাগোয়া (জাপান) থেকে:
আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে হকির শুরুটা হতাশার হার দিয়েই করলেন রাসেল মাহমুদ জিমিরা।
আজ সকালে নাগোয়ার গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে পুরুষ হকিতে ‘এ’ পুলের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরুতে প্রতিরোধ গড়লেও শেষ পর্যন্ত কোরিয়ার আক্রমণাত্মক হকির সামনে দাঁড়াতে পারেনি জিমির দল।
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে অবশ্য বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। কোরিয়া একের পর এক আক্রমণ সাজালেও দৃঢ় রক্ষণে তা সামাল দেয় লাল-সবুজরা। প্রতিপক্ষের চাপ সামলে প্রথম কোয়ার্টার গোলশূন্য রাখতেও সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে শুরুতেই বড় কোনো চাপে পড়তে হয়নি জিমিদের।
তবে দ্বিতীয় কোয়ার্টারেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ২১ মিনিটে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল হজম করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় বাংলাদেশ। প্রথমে বে সং মিনের ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় দক্ষিণ কোরিয়া (১-০)। পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই একই মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ও সেয়ং (২-০)। দ্রুত দুটি গোল করে ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নেয় দক্ষিণ কোরিয়া।
এরপর ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধে আর কোনো গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। দুই গোলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় জিমিদের।
বিরতির পর বাংলাদেশের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। তৃতীয় কোয়ার্টারে একের পর এক আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণকে ব্যতিব্যস্ত রাখে তারা। ম্যাচের ৩০ মিনিটে লি গ্যাংসানের ফিল্ড গোলে ব্যবধান ৩-০ করে কোরিয়া। দুই মিনিট পর আবারও বাংলাদেশের রক্ষণ ভেঙে যায়। পেনাল্টি কর্নার থেকে ইয়াং জিহুন গোল করলে দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে যায় ৪-০ ব্যবধানে।
চার গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ কোয়ার্টারে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা চালিয়ে যায় বাংলাদেশ। কয়েকটি আক্রমণও তৈরি করে লাল-সবুজরা। কিন্তু কোরিয়ার সংগঠিত ও জমাট রক্ষণ ভেদ করে গোল আদায় করতে পারেনি তারা। উল্টো ম্যাচের শেষদিকে আরও একবার বাংলাদেশের জালে বল পাঠায় দক্ষিণ কোরিয়া। ৫৮ মিনিটে সিম জেওনের ফিল্ড গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-০। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবধানের হার নিয়েই টার্ফ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ জাপানের বিপক্ষে।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। পুল ‘এ’-তে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। অন্যদিকে পুল ‘বি’-তে আছে পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, চীন, ওমান, উজবেকিস্তান ও থাইল্যান্ড।
১২ দলের টুর্নামেন্টে দুই পুল থেকে চারটি করে দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। এরপর চার দল খেলবে সেমিফাইনালে। তারপর হবে পদকের লড়াই।
এবারের এশিয়ান গেমস হকির গুরুত্ব আরও বেড়েছে ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকায়। এশিয়ান গেমসে সোনাজয়ী দল সরাসরি ২০২৮ অলিম্পিকের মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। অর্থাৎ এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন দল নিশ্চিত করবে অলিম্পিকের সরাসরি টিকিট।
তবে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারলেও অলিম্পিকে খেলার সুযোগ পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে না। এশিয়ান গেমসের চ্যাম্পিয়ন দলের পরের সেরা ছয় দল—অর্থাৎ দ্বিতীয় থেকে সপ্তম স্থানে থাকা দলগুলো অংশ নেবে ২০২৮ এফআইএইচ অলিম্পিক কোয়ালিফিকেশন টুর্নামেন্টে।
লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে জায়গা করে নেওয়ার জন্য সেটিই হবে তাদের শেষ সুযোগ। ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হার দিয়ে এশিয়ান গেমস শুরু হলেও সামনে বাংলাদেশের জন্য রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ। জাপানের বিপক্ষে পরের ম্যাচেই সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে জিমির দল।









Discussion about this post